মূল ফোকাস থাকবে শিল্পায়নে

নতুন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। শিল্পায়নে জোর দিয়ে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তিনি। উন্নয়ন দেশে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে জিএসপি সুবিধা হারানোর পরও বৈদেশিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্ব দেবেন মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে। গতকাল দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রায়ান বণিক

 

বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনার পরিকল্পনা কী?

আমার কাজ হবে দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনেক সহজ করা। এ জন্য যা যা করণীয় তার সবই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে তা অর্জন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখব। রপ্তানি বাণিজ্যে জোর দেওয়া হবে। এখন সীমিত কিছু পণ্য বড় কয়েকটি বাজারেই বেশি পরিমাণ রপ্তানি হচ্ছে। আমার চেষ্টা থাকবে আরও বেশি পণ্য নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি করা। এ জন্য পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করা হবে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন কোন খাতে?

আমার মূল ফোকাস থাকবে শিল্পায়নে। শিল্পায়ন ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। শিল্পায়নের মাধ্যমেই রপ্তানিও বাড়াতে হবে। বর্তমান সরকার দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। বিপুল পরিমাণ শিল্পায়ন ছাড়া এটি সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশে প্রকৌশল ও ভারী শিল্পে বিনিয়োগ কম। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কী উদ্যোগ নেবেন?

প্রকৌশল শিল্পে আমাদের সাফল্য কম। আমরা এখনো একটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনই তৈরি করতে পারছি না। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। দ্রুত উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল ও ভারী শিল্প বিনিয়োগে আমরা গুরুত্ব দেব। তবে এসব শিল্পে হঠাৎ করে অনেক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। ছোট ছোট যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে আগাতে হবে।

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির পর জিএসপি সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। ওই সময় রপ্তানি বাড়াতে পরিকল্পনা কী?

 ইউরোপের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার জন্য আলোচনা ও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যান্য দেশের কাছ থেকেও একই ধরনের সুবিধা যাতে পাওয়া যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তা ছাড়া আমরা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরে জোর দিচ্ছি। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে এফটিএ সইয়ের বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

ইউরোপের সঙ্গে ভিয়েতনামের এফটিএ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক দূর এগিয়েছে। তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার আশঙ্কা করছেন কি না?

এককভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। ইউরোপে আমরা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি। কিন্তু তাদের বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। তারা বেশকিছু খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে, সে চেষ্টা থাকবে।