সাত মাস অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেন চিকিৎসক

প্রায় সাত মাস আগে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয় অর্থো-সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদেরকে। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়েই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছিলেন এই চিকিসৎসক। এমন অভিযোগে গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতাও পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পরিচালক শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়।

দুদকের উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল কাদেরকে গত বছরের ১৯ জুলাই রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বদলির দশদিনের মাথায় নড়াইল সদর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্রও দেয়। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছিলেন।’

দুদক কর্মকর্তা প্রণব আরও জানান, বদলির আদেশ বাতিল চেয়ে আব্দুল কাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হয়েই তিনি ছয় মাসের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের নৈরাজ্য শুধু চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থিই নয়, এটা দুর্নীতি। কারণ সরকারি পদে বহাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং জনগণকে সেবা না দিয়ে বেতন-ভাতা তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি।’ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান মুনীর চৌধুরী।