রাজাকার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘৃণা প্রকাশের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় একটি ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।গতকাল সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এই ঘৃণাস্তম্ভ স্থাপন প্রকল্পের জায়গা নির্বাচনের কাজ চলছে বলে জানান। এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক এলাকায় সেখানকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা টানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অচিরেই এ প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের এসব বাড়ির নাম বীর নিবাস রাখা হয়েছে। জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৮২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন জানিয়েছে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের আগে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর আগে দুই লাখের ওপর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতেন। আমি মন্ত্রী হয়ে ২০ হাজারের অধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। বর্তমানে ১ লাখ ৮২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব তালিকার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই, যেমন ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, মুজিবনগর সরকারের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন, যারা বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীতে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া নার্স, শিল্পী-কলাকুশলী যাদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আমরা মার্চ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার জন্য চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, যাদের ব্যাপারে আপত্তি আছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলমান থাকবে। যাচাই-বাছাইয়ে যারা টিকবে তাদের তালিকা পরে প্রকাশ করব। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপরেই গত নিবাচনে জাতি আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা যাতে আরও সম্মানজনক হারে বাড়ানো যায় সেই চিন্তা আমাদের মন্ত্রণালয়ের রয়েছে।’