ভোটে অনিয়ম নিয়ে আইনি লড়াইয়ের নির্দেশ তারেকের

ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে বিএনপি

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৬৪টি জেলার ৬৪টি আসন ও মহানগরসহ মোট ৭০টি আসনের প্রার্থীরা মামলা করবেন। তাদের হয়ে মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ও আইনজীবী জানান।

তারা বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাপে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে তামাশা হয়েছে তার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে আছে, যেগুলোর ভিডিও সিডি আকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলা করার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ দলের হাতে এসেছে। এসব তথ্যপ্রমাণ একত্র করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করা হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ৭০টি আসনে মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটি মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে হিসেবে এখন মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

বিএনপির নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো প্রার্থী যদি মনে করেন, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, সেক্ষেত্রে অনিয়মের তথ্যপ্রমাণসহ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতেই পারেন এটি তার অধিকার।

কতদিনের মধ্যে মামলার ফয়সালা হতে পারে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটা আদালতের ওপর নির্ভর করছে। আদালত শুনানি শেষে কবে রায় দিতে পারবেন, সেটি বিচারকের ওপর নির্ভর করছে। মামলা করতে হলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আছে। সেখানে মামলা করতে হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলের প্রার্থীদের সঙ্গে গত শনি ও রবিবার কয়েক দফায় স্কাইপিতে কথা বলেছেন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় প্রার্থীদের মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন একাধিক প্রার্থী।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে (সদরের একাংশ ও কালীগঞ্জ) বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আলম ফিরোজ। গত শনিবার সন্ধ্যায় স্কাইপিতে তারেক রহমান যেসব প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন ট্রাইবুন্যালে যাচ্ছে বিএনপি তাদের মধ্যে তিনি একজন। ফিরোজ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের পরই তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দেওয়ায় তিনি বাকি প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের প্রার্থী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম বলেন, তার সঙ্গেও শনিবার তারেক রহমানের কথা হয়েছে। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন। সে হিসেবে তিনি মামলা করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  

এদিকে তারেক রহমান গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে স্কাইপি কথোপকথনে দলের আইনজীবীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনকে প্রধান সমন্বয়ক করার পাশাপাশি তাকে বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা মীর মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিনকে, খুলনা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীকে, রাজশাহীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার আমিনুল হককে, রংপুর বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।