আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪টিতে মনোনয়ন পেয়েছেন নতুন মুখ। তবে একাধিক উপজেলায় দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের এই সহ-সভাপতি। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী দলীয় মনোনয়ন দাবি করেছিলেন। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, ‘আশফাক আহমদকে এবার ছাড় দেওয়া হবে না।’
বিশ্বনাথে গত নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমান। ভোটে তিনি হেরেছিলেন। এবার তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা নুনু মিয়াকে। বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান এর আগে দুই বার উপজেলা নির্বাচন করে একবার জিতেছেন। এবার তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল জেলা আওয়ামী লীগ। তবে এখন জাহাঙ্গীর আলমকেই মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
গোয়াইনঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল ২০০৯ সালে দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার ফের তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দলের সমর্থনে নির্বাচন করেছিলেন লিয়াকত আলী। সেবার তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি আবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
কানাইঘাটে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন তার অনুসারীরা। তবে মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক লীগ নেতা আবদুল মোমিন। জকিগঞ্জে এবার প্রথম বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন লোকমান উদ্দিন।
এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, বিয়ানীবাজারে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও দক্ষিণ সুরমায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এদিকে জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদে দলীয় প্রার্থীর নাম দুই একদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আর আইনি জটিলতায় এখনই ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রতিটি উপজেলায় বর্ধিত সভা করে তৃণমূলের মতামতের আলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তুলনামূলক যোগ্য প্রার্থীদেরই দল মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দল মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।