বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদলের
নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতি ওসামা তাসীর।
বিডা চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দরগুলোয় অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পণ্য খালাস এবং লাগেজ হ্যান্ডেলিংসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে আনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীরা। এটি বহির্বিশ্বে আমাদের নেতিবাচক ইমেজ তুলে ধরে এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশে বিনিয়োগ আরও স্থবির হয়ে পড়বে’। তিনি আরও বলেন, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে বিমান, স্থল ও জলবন্দর, ব্যাংক-বিমাসহ বিনিয়োগ সহায়ক অন্যান্য সেবা দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আরও আন্তরিক হবে।
বিডা চেয়ারম্যান জানান, বিনিয়োগ বিষয়ক সেবাপ্রাপ্তির লক্ষ্যে বিডা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অগ্রগতির ধারা বজায় রাখা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বিশ্বব্যাংকের ‘ডুইং বিজনেস ২০১৯’ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম, যা মোটেই কাম্য নয়। তিনি ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো একান্ত আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যা বর্তমানে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। তিনি বিডা প্রস্তাবিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ উদ্যোগ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় এবং করনীতিসহ সরকারের অন্যান্য নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর কৌশলপত্র প্রণয়ন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যবসা সহায়ক সেবাপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে, যা বিনিয়োগকে ব্যাহত করছে।
ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, আলহাজ দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, এস এম জিল্লুর রহমান এবং বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন