সৌদি নারীদের ওপর নজরদারির অ্যাপ অপসারণ দাবি

সৌদি নারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে টেক জায়ান্ট গুগলের প্লে স্টোর এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে ‘অ্যাবশার’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই অ্যাপটি অনলাইন স্টোরগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।মার্কিন সিনেট ফিন্যান্স কমিটির অন্যতম সদস্য সিনেটর রন ওয়াইডেন অ্যাপল সিইও টিম কুক এবং গুগল সিইও সুন্দর পিচাইয়ের কাছে এক চিঠিতে ‘অ্যাপশার’ অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেন।

‘অ্যাবশার’ অ্যাপটি সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে আইওএস ডিভাইসে চালু করা হয়। এর পরের বছরই অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এটির ব্যবহার শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সৌদি আরবের সরকারি দপ্তরগুলো ই-পেট্রোলের কাজে এই অ্যাপটি ব্যবহার করত। সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ এই অ্যাপের মাধ্যমে তখন হজ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রাফিক সমস্যা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজ নিত। এইসব সেবার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় যাচ্ছে এসব তথ্য জানারও একটি ফিচার সংযুক্ত করা হয়। বিশেষ করে মেয়েরা দেশের বাইরে গেলে অভিভাবকরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করে খোঁজ নিতে পারত। কিন্তু ধীরে ধীরে এই অ্যাপ সৌদি আরবে নারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার এক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। পুরুষরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের ওপর কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে।

সৌদি রক্ষণশীল আইন অনুযায়ী, নারীরা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোথাও ভ্রমণ করতে পারে না। এই আইনটি সারা বিশ^জুড়েই সমালোচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ‘অ্যাবশার’ অ্যাপটি এই জঘন্য আইনটির পক্ষে কাজ করছে।

ওয়াইডেন তার চিঠিতে বলেন, ‘এটা ঠিক যে সৌদি আরব নারীদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ এবং দমিয়ে রাখার উপায় খুঁজে বেড়ায় সবসময়। কিন্তু আমেরিকান সংস্থাগুলোর উচিত নয় এমন কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’

‘অ্যাবশার’ ব্যবহার করে সৌদি পুরুষরা নারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এমন অভিযোগ শোনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপল সিইও টিম কুক বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। তবে, নিশ্চয়ই এই বিষয়টি আমি পর্যবেক্ষণ করব।’