ভৈরবে সম্ভাবনাময় বলগেট

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক বছরে ইস্পাতের তৈরি মালবাহী নৌকা অর্থাৎ বলগেট নির্মাণ ও মেরামত শিল্প গড়ে উঠেছে। কয়েকশ লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এখানে। লাভজনক হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা এ শিল্পে বিনিয়োগ করছেন প্রতি বছর। তাদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্পের ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। এতে এ অঞ্চলে আরও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ অঞ্চল নিয়ে গঠিত দেশের বিশাল হাওরাঞ্চলের প্রবেশপথ বলে নদীবন্দর ভৈরব পরিচিত। হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার পণ্য নৌপথে ভৈরব হয়ে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ হয়। বেশি পণ্য ধারণে সক্ষম ও মজবুত হওয়ায় এখন বলগেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।বর্তমানে ভৈরবের ১০-১২টি স্থানে এ বলগেট নির্মাণ হচ্ছে। আকার ভেদে একেকটি বলগেট নির্মাণে ২০-৮০ লাখ টাকা খরচ হয়। একেকটি বলগেট বছরে ৫-১০ লাখ টাকায় ভাড়া খাটানো যায়। ১০-১২ জন শ্রমিক দু-তিন মাসের মধ্যে নির্মাণ করতে পারে একটি বলগেট। এ কাজে দক্ষ-অদক্ষ প্রতি শ্রমিক মাসে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন।জগন্নাথপুর কান্দাহাটি এলাকার বলগেট নির্মাণ ওয়ার্কশপের

মালিক মো. আবু তাহের মিয়া জানান, প্রতি বছর ইস্পাতসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও মুনাফা ভালোই হয়। তার এই ওয়ার্কশপ থেকে বছরে তিন-চারটি বলগেট নির্মাণ এবং ছয়-সাতটি মেরামত করা হয়।

পুরনো ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ এলাকার মেরিন পাওয়ার ডকইয়ার্ডের মালিক আরিফুল কাউছার দাবি করেন, সরকারি উদ্যোগে ভৈরবের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ডকইয়ার্ড নির্মিত হলে এই শিল্পের আরও প্রসার হতো।

একই এলাকার মেসার্স সততা ডকইয়ার্ডের পরিচালক সালাহ উদ্দিন বিরু বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু থেকে উত্তরে শম্ভপুর লেভেল ক্রসিং এবং

দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ পর্যন্ত নদের তীর ঘেঁষে একটি রাস্তা রেকর্ডভুক্ত আছে বহু আগে থেকেই। সেই সড়ক সরকার নির্মাণ করলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের উন্নতিসহ সম্প্রসারণ ঘটবে।ভৈরবে বলগেট নির্মাণশিল্প গড়েওঠা, শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া এবং হাওরাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে এই জলযানের চাহিদার কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন জানান, এই শিল্প উন্নয়নে যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।