বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে অবস্থিত শহীদ জিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিন বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্র্তৃপক্ষ। ফলে তিন বছর ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের পাঠদান করিয়ে আসছিলেন এখানকার শিক্ষকরা। কিন্তু শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এখানে ক্লাস করতে চায় না। তাই এখানকার শিশুদের অভিভাবকরা সন্তানদের অন্য স্কুলে নিয়ে ভর্তি করছেন।
আরেক স্কুল মাঝিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে টিনশেডের তিন কক্ষের মধ্যে দুটি ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে এখানে পড়তে আসা শিশুদের সিঁড়ির নিচে ছোট্ট কক্ষে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে। বাগেরহাটের নয় উপজেলায় প্রায় ১০০ স্কুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে।
শহীদ জিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশীষ চাটার্জী এই প্রতিবেদককে বলেন, ৮০র দশকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে একতলার এই স্কুল ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। একতলা ভবনে একটি প্রশাসনিক কক্ষসহ রয়েছে মোট চারটি শ্রেণিকক্ষ। স্কুলের সব কটি কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ২০১৬ সালে স্কুল ভবনের এই বেহালদশা শিক্ষা অফিসকে জানালে তারা পরিদর্শন করে স্কুলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে খেলার মাঠে নতুন একটি টিনশেড তৈরি করে সেখানে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
আরেক সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চলা অবস্থায় পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এখানে পড়তে আসা শিশুদের অভিভাবকরা ভবনের অবস্থা দেখে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের এখানে পড়াতে চান না। অনেকে ভবনের এই অবস্থা দেখে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, টিনশেডের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে ভয় পাই। আমরা নতুন ক্লাসরুম চাই। আমাদের ভবনের সিঁড়িঘরে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ক্লাস করতে হয়।
স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা স্বীকার করে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোর তালিকা করে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বেশকিছু স্কুলের কাজ শুরু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি স্কুলের ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বলেন, জেলায় সবশেষ ২০১৩ সালে প্রায় ২০০ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় চিহ্নিত করা হয়।
এলজিইডি বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে জেলার ৮৬টি স্কুলের নির্মাণকাজ চলমান। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। কবির উদ্দিন জানান বর্তমানে জেলায় প্রায় ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।