চট্টগ্রামের সীতাকু-ের লতিফপুরে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলপি গ্যাসের নতুন ‘বটলিং প্লান্ট’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল)। এই প্রকল্পে দৈনিক ২৫ হাজার ইউনিট এলপিজি (লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বোতলজাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলপিজিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্লান্ট স্থাপনের জন্য লতিফপুরে ১০ একর খাসজমি চিহ্নিত করে তা অধিগ্রহণের জন্য একটি প্রস্তাব সম্প্রতি বিপিসির মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ ফজলুর রহমান জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান এলপিজিএল বর্তমানে অভ্যন্তরীণ উৎসের গ্যাস থেকে বছরে মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন বোতলজাত গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে বার্ষিক ১৪ হাজার মেট্রিক টন এবং কৈলাশটিলায় ৬ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৬০ থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন বোতলজাত গ্যাস বাজারে সরবরাহ করছে।
বিপিসি কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াজাতের সময় উপজাত হিসেবে তৈরি হয় এলপিজি। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে এসব এলপিজি বোতলজাত করে গৃহস্থালি পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য বিপণন করতে ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় এলপি গ্যাসের বর্তমান প্লান্টটি স্থাপন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এই প্লান্টে এলপিজি মজুত ও বোতলজাত করা হয়। বিপিসির অধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে প্রাইভেট লিমিটেড এবং ১৯৮৮ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (এলপি গ্যাস লিমিটেড) হিসেবে নিবন্ধিত হয়। চট্টগ্রামের প্লান্টটির পাশাপাশি ১৯৯৫ সালে সিলেটের কৈলাসটিলায় আরেকটি এলপিজি বটলিং প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৩ সালে কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্টটি এলপি গ্যাস লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত হয়।
চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে এবং কৈলাসটিলার প্লান্টে উৎপাদিত এলপিজি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা এলপিজি গ্যাস প্রকল্পে বোতলজাত করা হয়। এরপর তা পদ্মা অয়েল, মেঘনা অয়েল, যমুনা অয়েল ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে সারা দেশে বিপণন করা হয়।
বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালে ‘কনস্ট্রাকশন অব এলপিজি বটলিং অ্যাট কুমিরা অর এ্যানি সুইটেবল প্লেস ইন চিটাগাং ইনক্লুডিং ইমপোর্ট ফ্যাসিলিটিজ অব এলপিজি জেটি, পাইপলাইনস স্টোরেজ ট্যাংকস’ শিরোনামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিপিসি। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। এখন ওই প্রকল্পটিই নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি।এলপিজিএল কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের চাহিদা বছরে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান মিলে সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তাই সরবরাহে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার যে নীতি প্রণয়ন করেছে তার আলোকে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে নতুন এই প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন হলে সেখান থেকে প্রতিবছর ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি পাওয়া যাবে। এগুলো বোতলজাত করার জন্যও নতুন প্লান্টের প্রয়োজন হবে।