বোমা হামলায় বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা হয়নি

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাজা মঈনুদ্দিন আখতারকে বোমা মেরে হত্যার ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কারা কী কারণে তাকে হত্যা করল বা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। শুক্রবার সকালে খাজা মঈনুদ্দিনের লাশের ময়নাতদন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হবে।

এদিকে, শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে রামপাল উপজেলার ভরসাপুর বাজার এলাকায় একদল সন্ত্রাসী তার উপর বোমা হামলা চালালে বিএনপি নেতা খাজা মঈনুদ্দিন আখতার নিহত হন।

খাজা মঈনুদ্দিন আখতার রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বাড়ি রামপালের বামুনডহর গ্রামে।

নিহতের স্ত্রী চম্পামালা বেগম বলেন, তার স্বামী বিএনপি নেতা খাজা মঈনুদ্দিন আখতারের উপর বোমা হামলার কয়েক মিনিট আগেই তার সঙ্গে ভরসাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয়। তাকে বাজার করার কথা বলে আমি ভ্যানযোগে ফয়লা এলাকায় চলে আসি। এর কিছুক্ষণ পরে ফয়লায় বসে শুনি আমার স্বামীর উপরে কারা হামলা চালিয়েছে। আমার সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি। এখন তিনি রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। সব ধরনের বিরোধ থেকে নিজে দূরে থাকতেন।

তিনি উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বাবা খাজা সোবাহান আলীও এখানকার চেয়ারম্যান ছিলেন। সামনে হজে যাওয়ার জন্য টাকা জামা দিয়েছিলেন বলেও জানালেন তার স্ত্রী।

স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভরসাপুর বাজার এলাকার কমল মার্কেটের সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণের একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম কোনো দোকানে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে। ছুটে এসে দেখি কমলা মার্কেট এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া কমলে দেখি সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপরে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। সবাই তাকে রাস্তা থেকে তুলে গাড়িতে করে খুলনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খাজা মঈনুদ্দিন আখতারের উপর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালালে তিনি মারা যান।

শুক্রবার সকালে নিহত বিএনপি নেতা খাজা মঈনুদ্দিনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এই ঘটনার পর সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কারা কি কারণে তার উপর বোমা হামলা চালিয়েছে তা অনুসন্ধান করতে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।