সোনার বাংলা বেহেশত হবে

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে এই সময়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান বাঙালি শিল্পী বললে অত্যুক্তি হবে না। পাশ্চাত্যের প্যারিস, বার্লিন, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক থেকে প্রাচ্যের নয়া দিল্লি, কলকাতা, ব্যাংকক, বেইজিং, সিউল, টোকিওর বিশ্বসেরা জাদুঘর-চিত্রশালায় তার চিত্রকর্ম ব্যাপকভাবে সমাদৃত। ১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে ‘মাস্টার পেইন্টার্স অব কনটেম্পোরারি আর্টস’-এর পঞ্চাশ শিল্পীর একজন হিসেবে আমন্ত্রিত হন শাহাবুদ্দিন। ২০০০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত হন তিনি। চারুশিল্প ও মানবতায় অসামান্য অবদানের জন্য ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা নাইট উপাধি পেয়েছেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন।

১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন শাহাবুদ্দিন। তার বাবা তায়েবউদ্দিন প্রধান এবং মা সাইফুন্নেসা আহমেদ। পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরায় হলেও জন্মশহর ঢাকার তিনি এক কিংবদন্তি গেরিলা যোদ্ধা। মাত্র ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে ঢাকায় রেডিও অফিসে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন শাহাবুদ্দিন ১৯৭৪ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসের ইকোল দ্য বোজার্ট-এ চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা নিতে যান। এরপর থেকেই প্যারিস ও ঢাকায় বসবাস করে ছবি এঁকে যাচ্ছেন এই চিত্রকর। শাহাবুদ্দিনের গতিময় ও বর্ণিল চিত্রকর্মে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দুনিয়াব্যাপী এক নতুন মাত্রায় উপস্থাপিত হচ্ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে রাজধানীর কলাবাগানে তার হোমস্টুডিয়োতে মুক্তিযোদ্ধা এই চিত্রশিল্পী একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়েছেন। দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : মুখের ভাষা যেমন আমাদের ভাষা, শিল্পভাষাও আমাদের ভাষা। ইতিহাসের কাকতাল হতে পারে, কিন্তু এটা অনুপ্রেরণার যে, ১৯৪৮ সালে যখন ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বের সূচনা হয়, সেই একই বছরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ঢাকায় একটি আধুনিক চারুশিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। এই বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : এর দুটো দিক আছে। প্রথমত, আমি ভাষা আন্দোলন দেখিনি। আমার জন্ম ১৯৫০ সালে। কিন্তু আমি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং এখন পর্যন্ত দেখেছি, সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। ভাষা আন্দোলনে আমাদের আগের প্রজন্ম যদি রক্ত না দিত তাহলে এসব হতো না। ভাষার অধিকারও আমরা পেতাম না, দেশ স্বাধীনের আন্দোলনও হতো না।

দ্বিতীয়ত, জয়নুল আবেদিন আমাদের পথিকৃৎ শিল্পী। উনি শিল্পী না হলে আমরা কেউই হতাম না। উনি কেন করতে গেলেন? নিশ্চয়ই ওনার মধ্যে দেশের চেতনাটা কাজ করেছে। নিজের দেশ, নিজের জাতি নিয়ে ভেবেছেন। নইলে তো জয়নুল দুর্ভিক্ষের ছবি আঁকতেন না। দুর্ভিক্ষের ছবি মানে কি? জয়নুল অনুভব করেছেন যে, তার নিজের মা নিজের সন্তান মারা যাচ্ছে। শিল্পী হিসেবে এটা উনি ফিল করেছেন, নিজেকে দেশ বা জাতির বাইরে ভাবেন নাই। এটাই শক্তি। উনি সত্যের পথে ছিলেন। চারদিকে যা ঘটছে, সেই বড় সত্যকে বাদ দিয়ে উনি তখন ফুল-লতা-পাতা আঁকেন নাই। আঁকলে সেটা কাজ করত না। শিল্পের মধ্যে মানুষ থাকতে হবে, মানুষের সত্যটা থাকতে হবে।

দেশ রূপান্তর : আপনি রাজধানী ঢাকাতেই বেড়ে উঠেছেন। পরাধীনতা থেকে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে চোখের সামনেই জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে দেখেছেন। কৈশোর পেরিয়ে নিজেই সেই লড়াইয়ে নেমেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন। স্বাধীন দেশের এই সংগ্রামের অনুপ্রেরণা কীভাবে এলো?
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : একসময় তো রাজধানী ছিল কলকাতায়। ফলে লেখাপড়া-বিদ্যাবুদ্ধি-শিল্পসংস্কৃতির চর্চাটা ওখানেই বেশি হয়েছে। সেখানে দুই বাংলার লোকেরাই ছিলেন। খেয়াল করে দেখবে কলকাতা থেকে যারাই এসেছেন, তারাই ওপরে। কবি-লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিক যেমন ছিলেন, রাজনীতিবিদরাও ছিলেন। দেশভাগের পর অনেকেই ঢাকায় চলে এসেছেন। মেধা দিয়ে তারা এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শেখ মুজিব কলকাতা থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছেন, জেল খেটেছেন। জয়নুল আবেদিন যেমন আর্টস্কুল করেছেন, এমনি অনেকেই যার যার জায়গায় কাজ করেছেন। বাঙালির অনেক নায়ক আছে, বীর আছে, আমাদের অনেক গভীর শিকড় আছে।

আমাদের যেমন রবীন্দ্রনাথ আছেন, নজরুল আছেন, জীবনানন্দ দাশ আছেন, লালন ফকির আছেন তেমনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আছেন। বঙ্গবন্ধু গান্ধীকে দেখেছেন, নেহরুকে দেখেছেন, সোহরাওয়ার্দীকে দেখেছেন। ওনারা তো ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের শীর্ষ নেতা। তরুণ বয়স থেকেই তার দেখার চোখটা অনেক বড় হয়েছে, উনি নিজেও এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এভাবে বাঙালির শিকড় থেকেই যেমন ভাষা আন্দোলনের বীজটা হলো, ওই শিকড়টা মজবুত করার জন্যই হলো স্বাধীনতা। ভাষার বীজ থেকে চারা গাছটা বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়েই বেড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা এই স্বাধীনতা পেতাম না, এই দেশটা হতো না।

দেশ রূপান্তর : ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তো আপনি ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্র, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা। ঊনসত্তরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপনারাই মানে, ছাত্ররাই শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিলেন। সাতই মার্চের ভাষণ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন। আপনার সেদিনের বিশেষ কোনো স্মৃতির কথা বলুন।
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : স্মৃতি তো অনেক। রেসকোর্সে আমাদের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিশাল গণসংবর্ধনায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন। আর সাতই মার্চের দিন তো আমি মঞ্চের একদম সামনে মেয়েদের সঙ্গে মাঠে বসেছিলাম। সেখানে বসেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছি। এরপর তো যুদ্ধে গেলাম।

যুদ্ধশেষে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। সেদিন প্রথমে আমি আর্ট কলেজের ছাদে উঠে গিয়েছিলাম তাকে দেখার জন্য। আমার অন্তর কাঁদতেছিল উনি কী বলেন সেটা শোনার জন্য। যখন রেসকোর্সের দিকে ওনার গাড়ি এলো, লক্ষ লক্ষ লোক একদম সাইলেন্ট হয়ে গেল। উনি বলতে শুরু করলেন, আমার ‘গরিলা ভাইয়েরা’। লক্ষ্য করো কিন্তু, উনি এভাবেই ‘গরিলা ভাইয়েরা’ বলতেন। উনি যে শব্দগুলো বলেছেন, আমি মুসলমান, আমি বাঙালি। এসব বলে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘স্বাধীনতা যেমন পাওয়া কঠিন, রক্ষা করাটাও কঠিন’। আমি কিন্তু তখন কথাটা বুঝি নাই, আমার মনে হলো উনি এটা কী বললেন! আমরা তো স্বাধীন হয়েই গেছি! ওনার সেই কথাটা পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি। ওনার শিক্ষাটা আসলে জীবন থেকে নেওয়া। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমি অবাক হই যে, কীভাবে উনি জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলাকে’ বেছে নিলেন। হি ইজ অ্যা ক্রিয়েটর। উনি শুধু দেশ স্বাধীন করে দিয়ে যাননি, ক্রিয়েটর ঠিকই আমাদের সারা জীবনের জন্য আহারটা দিয়ে গেছেন, সোনার বাংলার স্বপ্নটা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন।

দেশ রূপান্তর : বঙ্গবন্ধু তো আমাদের রাজনীতির কবি। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক হওয়ার বীরোচিত উত্থান থেকে শুরু করে তার ট্র্যাজিক মৃত্যুর মধ্য দিয়েও সেটা মূর্ত। আমি একই সঙ্গে আরেকটা বিষয় বলতে চাই। বঙ্গবন্ধু ও তার সমসাময়িক প্রজন্মের মানুষদের মধ্যে জাতি গঠনের, দেশ গঠনের একটা সাধনা দেখা যায়। শিল্পী জয়নুল আবেদিন-কামরুল হাসান বা স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কথাই যদি বলি। আপনি কীভাবে দেখেন?
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : আমি বুঝেছি। মূল ধ্বংসের কারণটা তো পঁচাত্তর। সেটাও তো শুধু বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই শেষ হয়নি। এরপরও তো একুশটা বছর ধরে ধ্বংস চলেছে। যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তার সম্পূর্ণ উল্টো দিকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো। দেখো, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পাতাটাই যেন বই থেকে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন সেই পাতাগুলো খুঁজে খুঁজে এনে জোড়া লাগাতে হচ্ছে, আঠা লাগাতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে, বাঁধাই করতে হবে। আবার সেটা সেটা শুকাতেও সময় লাগবে। এখন সেই চেষ্টাই চলছে।

শোনো, শাহবাগ যদি না হতো, শাহবাগে তোমরা আন্দোলন করেছো না; তাহলে তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা করা যেত না। তোমরা যখন শাহবাগে আন্দোলন করেছো তখন কিন্তু প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের নিচে আমরা বাঙালিরা একত্রিত হয়ে একাত্মতা জানিয়েছি। এত বছর পর প্রথমবারের মতো সেখানে বাঙালিদের এত বড় একটা সমাবেশ আমরা তখন আয়োজন করতে পেরেছিলাম। আমরা তখন তোমাদের নিয়ে গর্ব করেছি। একটা স্পিরিট তো আছেই, এটা রক্তের মধ্যে মিশে আছে। তোমরা তো মুক্তিযুদ্ধ দেখো নাই, কিন্তু তোমরা এখন আস্তে আস্তে বিষয়গুলো বুঝতে পারছো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা বিকশিত হবেই।

দেশ রূপান্তর : ভাস্কর নভেরা আহমেদ আর চিত্রকর হামিদুর রাহমানের নকশায় করা আমাদের শহীদ মিনারই সম্ভবত পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী অনুকৃতি হওয়া স্থাপত্য। এখন দুনিয়ার নানা দেশের নানা শহর-নগরেও বাঙালিরা শহীদ মিনার গড়েছে।
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : শহীদ মিনার কারা বানিয়েছে। এই রীতিটা অনেক পুরনো। দেশে দেশে যুগে যুগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, কীর্তিমানদের স্মরণ করার রীতি আছে। ভাষাশহীদদের স্মরণে আমাদের শহীদ মিনারও তেমনি। এটা আমাদের শহীদদের স্মরণে গড়ে ওঠা তীর্থ। আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই খালি পায়ে মাথা নত করে সেখানে গিয়ে জড়ো হই, আমাদের চেতনাকে শাণিত করে নিই। আমাদের কপাল ভালো তখনকার দিনে যারা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারা অত্যন্ত দূরদর্শী ছিলেন। তারা এই বিষয়টা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য আপনি কী সম্ভাবনা দেখেন। গত শতকে আমরা ভাষা আন্দোলন পেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধ পেয়েছি। একুশ শতকে যে শিশুরা জন্ম নিল তারা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ পাবে?
শিল্পী শাহাবুদ্দিন : আজকের শিশুরা আগামীতে এক সমৃদ্ধ সোনার বাংলা পাবে। সোনার বাংলা বেহেশত হবে। আগের কথা থেকেই আসি। একুশে ফেব্রুয়ারির জন্যই তো শহীদ মিনার হলো। এটা কেন হলো? আমরা যদি আমার মায়ের ভাষায় কথা বলতে না পারি তার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো, এটাই তো মূল কথা। আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে আমরা গর্বিত। তুমি একটু আগে চর্যাপদ, চণ্ডীদাস, চন্দ্রাবতী, ময়নামতির কথা বলছিলে, বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের কথা বলছিলে। তখন হয়তো আমরা স্বাধীন ছিলাম না। এখন আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ।

এখন ধরো আধুনিক কালে এসে যদি রবীন্দ্রনাথ না হতেন, তাহলে হয়তো আমাদের ভাষা আন্দোলনও হতো না। শেখ মুজিব না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হতো না। যেমন ইউরোপে যদি লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো না হতেন তাহলে হয়তো রেনেসাঁ হতো না। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। একটা জাতির ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত এটা খুব অল্প সময়। এখন আমাদের সামনে বিকাশের অনেক সম্ভাবনা আছে। ইতিহাসের, প্রকৃতির এমন কিছু অদৃশ্য গতি-প্রকৃতি থাকে, যেটা সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে, সোনার বাংলা বেহেশত হবে।