বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণে চাঁদাবাজির অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে পল্লী বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ কাজে ঠিকাদারদের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী মহল ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ২০১৯ সালের মধ্যে উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সমিতির কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার জামাই শামছুল ও সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সবুজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রুবেলসহ কয়েকজন একটি চক্র তৈরি করে। এই চক্র কাজের শুরুতেই বিভিন্নভাবে মূল ঠিকাদারকে জিম্মি করে ফেলে। ওই চক্র বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের আওতাধীন আগ্রহী গ্রাহকদের কাছে নিজেদের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে খাম্বা, তার ও বিভিন্ন মালামাল সরবরাহসহ গাড়ি ভাড়ার জন্য গ্রাহকদের কাছে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। এই টাকা তুলে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতা। দাবি করা টাকার অর্ধেক দিলে এলাকায় খাম্বা ফেলা হয়, বাকি টাকা দিলে তার টানা হয়। টাকা না দিলে এলাকার লাইন সম্প্রসারণের কাজ ফেলে রাখা হচ্ছে বছরের পর বছর।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক বরাবর এমন অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের আবদুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম, আবু বক্করসহ হয়রানির শিকার মানুষ। ওই এলাকায় গেলে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন আবুল কাশেম (৬৫), মওলানা ফকরুল ইসলামসহ অনেকে।

এ বিষয়ে রুবেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ঠিকাদার দাবি করেন। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘টাকা না দিলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মালামাল সরবরাহ করে না। তাই টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

পল্লী বিদ্যুতের উলিপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদার পল্লী বিদ্যুৎকে লাইন হস্তান্তর না করলে আমাদের কিছু করার নেই।’

অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার জামাই শামসুলসহ একটি চক্র এ কাজে লিপ্ত। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এই চক্রের এক সদস্য আটক হয়েছে।