নাটোরে যুবলীগ নেতা হাসান আলীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই যুবকের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একটি হত্যা মামলার আসামি সজীব ও সোহান নামে ওই দুই যুবক মাত্র এক সপ্তাহ আগেই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফেরে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন সেন্টুর নির্দেশে তারা দুজন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাসানের লাশ দাফন শেষে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোর শহরের দত্তপাড়া বাজারে যুবলীগ নেতা হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং সেখান থেকে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত ও সদর থানার ওসি জালালউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাসান হত্যায় জড়িত দুই যুবকের নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। বড়হরিশপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সালাউদ্দিন সেন্টুর নির্দেশে তারা পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। একটি হত্যা মামলায় কারাগারে আটক থাকা সজীব ও সোহান নামে ওই দুই যুবক এক সপ্তাহ আগে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরে। বছর দুয়েক আগে শহরের কানাইখালীতে এক কাচ ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলার আসামি এই দুই যুবক।
বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ এবং ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে সেন্টু যুবলীগ নেতা হাসানকে খুন করিয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। তার আত্মীয় খুরশেদ আলম বলেন, ‘সেন্টুর অপকর্মের প্রতিবাদ করা এবং তাকে ব্যবসায়িক অংশীদার না করায় হাসানকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে পানের ব্যবসা শুরু করে হাসান। তখন তার ব্যবসায়িক অংশীদার হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সেন্টু। পরে পানের পাশাপাশি নতুন করে শিমের ব্যবসা শুরু করে হাসান। কিন্তু সেই ব্যবসার অংশীদার করেনি সেন্টুকে। তখন থেকেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ।’
হাসানের বাবা মোংলা খাঁ বলেন, ‘পুরো হরিশপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সেন্টু এবং তার দুই সহযোগী সোহান ও সজীব। এলাকায় ঘটা প্রতিটি অপকর্মের সঙ্গেই তারা তিনজনের কেউ না কেউ জড়িত।’
এদিকে গতকাল দুপুরে স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।