বন্ধ মিল মালিকদের অনুকূলে বরাদ্দ

রাজবাড়ীতে চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ

রাজবাড়ী জেলায় চলতি আমন মৌসুমে সিদ্ধ চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্ধ ও ভুয়া মিল মালিকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ায় এ অভিযোগ উঠেছে।  ফলে জেলার প্রকৃত মিল মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন চাল সংগ্রহের সরকারি সুবিধা থেকে।রাজবাড়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮-১৯ আমন মৌসুমের চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। এজন্য চুক্তি করা হয়েছে জেলার ৪৮টি মিল মালিকদের সঙ্গে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ অভিযান শেষ হওয়ার কথা।খাদ্য অধিদপ্তর থেকে জেলায় এ বছর আমন মৌসুমে সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৬১ মেট্রিক টন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৩৪ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। এদিকে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য চালকলের পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতা অনুযায়ী চাহিদা বিভাজন ও চুক্তি করার নির্দেশনা থাকলেও একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বন্ধ ও ভুয়া মিল মালিকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত মিল মালিকদের তালিকার ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত রমেন কুমার সাহার মালিকানাধীন মেসার্স শাওন ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড রাইস মিলটি খেলাপি ঋণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অথচ ওই মিলের নামে ৪৬ দশমিক ৫৩৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন প্রভাবশালী নেতা ওই বরাদ্দ নিয়েছেন।

বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স আল মামুন রাইস মিলটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কিন্তু এর অনুকূলেও চাল সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৩ মেট্রিক টন।

মিল মালিক লোকমান হোসেন তার মিলটি গত অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে বলে স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে জানান, স্থানীয় একজন প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির অনুকূলে ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মেসার্স আরিফ রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ও রাজবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ‘নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভুয়া মিলের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকৃত মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছি।’ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুনশী মুজিবর রহমান বলেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে দু-একটি অনিয়ম করতে হয়েছে। এ নিয়ে লেখালেখি না করতে তিনি অনুরোধ করেন।