পরিবার থাকে মেহেরপুর। চাকরি করেন কুষ্টিয়ায়। তাই প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছে আবার মেহেরপুর ফিরতে রাত হয়ে যায়। প্রায়ই। এভাবে প্রতিদিন দুর্ভোগ সয়ে যাতায়াত করতে হয় কুষ্টিয়ার ত্রিমনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আফজাল হোসেনকে। তার মতো অসংখ্য যাত্রীকে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি যানবাহন পাল্টে কুষ্টিয়া যেতে হয়। এতে খরচ ও সময় বেশি লাগে। টানা তিন বছর মেহেরপুর-কুষ্টিয়া পথে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এভাবেই চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির মধ্যে পড়েছেন এই পথের যাত্রীরা।ভুক্তভোগীরা জানান, মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া ৫৬ কিলোমিটার রাস্তায় যেতে প্রথমে মেহেরপুর থেকে খলিষাকুন্ডি বাসে করে আবার কখনো ভ্যান কিংবা নসিমনে চেপে যেতে হয়। সেখান থেকে কুষ্টিয়া পৌঁছাতে একভাবেই যেতে হয় যাত্রীদের।মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ার সজল আহমেদ (২৮) বলেন, আগে ৮০ টাকার টিকিট কেটে দেড় ঘণ্টায় কুষ্টিয়া পৌঁছাতাম। এখন ৩০০ টাকা খরচ করে কুষ্টিয়া পৌঁছাতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। এ কারণে বড় ধরনের কাজ ছাড়া শুধু সামাজিকতা রক্ষায় এখন আর কেউ কুষ্টিয়া যেতে চান না।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল বলেন, ট্রিপ বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের কারণে এই পথে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ আছে। মেহেরপুর বৈষম্য দূর সাপেক্ষে বাস চালাতে চায়। অপরদিকে কুষ্টিয়া বৈষম্য রেখেই বাস চালাতে চায়। মূলত বাস চলাচল বন্ধের এটাই কারণ।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাবু বৈষম্যের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মেহেরপুর বাস মালিক সমিতিই প্রথম বাস চলাচল বন্ধ করেছে। তাদের সম্মতি থাকলে কুষ্টিয়ার বাস মালিক সমিতির বাস চলাচলে কোনো বাধা নেই।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই জনদুর্ভোগ নিরসনে তিনি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সাহায্য চেয়েছেন। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গণি বলেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।