ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করা কৃষকদের পরেরবার এক শতাংশ কম সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। আর কৃষিঋণের বাইরে ব্যাংকটি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে যারা কোনো রকম পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধা ছাড়া একটানা পাঁচ বছর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছে, তাদের ১ শতাংশ সুদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বিকেবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহিদুল ইসলাম অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভালো ঋণগ্রহীতাদের বাছাই করে তাদের প্রণোদনা দিতে নির্দেশ দেন। ভালো ঋণগ্রহীতাদের কোন ধরনের প্রণোদনা দেওয়া যায়, তা জানাতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। সে পরিপ্রেক্ষিতেই ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেবির এমডি এ প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। বিকেবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কৃষিঋণ গ্রহীতাদের আলাদাভাবে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করে বিকেবির এমডি শহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিটি বিভাগ ও অঞ্চলের যেসব গ্রাহক পরপর পাঁচ বছর কৃষি ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে তিনজন ভালো কৃষি ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করে সনদপত্র ও পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। কৃষিঋণ বাদে অন্য ঋণগ্রহীতাদের মধ্য থেকে পরপর পাঁচ বছর যেসব ঋণগ্রহীতা নিয়মিত (পুনঃতফসিলীকরণ ও সুদ মওকুফ সুবিধা ছাড়া) ঋণ পরিশোধ করবেন, ষষ্ঠ বছরে তাদের কাছ থেকে আদায় করা সুদের ১ শতাংশ বা নির্দিষ্ট হারে সুদ ফেরত দেওয়া যেতে পারে। তবে কম সুদে ঋণ নেওয়া গ্রাহকরা এ সুবিধা পাবেন না।
যেসব ঋণগ্রহীতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুনঃতফসিল বা সুদ মওকুফ সুবিধা না নিয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করছেন, তাদের ‘পরীক্ষিত ভালো ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিকেবির প্রতিবেদনে। ব্যাংকটির এমডি মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ধরনের ভালো ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকের বিদ্যমান সুদ হারের তুলনায় কম সুদে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।’
কৃষিঋণ ছাড়া উদ্যোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে বিকেবির প্রস্তাব হলো, যেসব উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সক্ষম এবং গত তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন, তাদের ‘ভালো ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সব ব্যাংকের ভালো ঋণগ্রহীতাদের জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার প্রস্তাব করে বিকেবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সকল ব্যাংকের ভালো ঋণগ্রহীতাদের মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় সেরা ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্র্তৃক শ্রেণিভেদে জাতীয় পর্যায়ে ঋণগ্রহীতা নির্বাচন ও সম্মানিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে এবং তাদেরকে বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। ফলশ্রুতিতে ভালো ঋণগ্রহীতা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।’
ভালো ঋণগ্রহীতাদের জনসম্মুখে সম্মানিত করার প্রস্তাব করে বিকেবি বলেছে, ভালো ঋণগ্রহীতাদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জনসম্মুখে সম্মানিত করে ব্যাংকের উচ্চতর ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশংসাপত্র ও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। যেকোনো ব্যাংক থেকে পাওয়া এই প্রশংসাপত্র অর্জন করা ঋণগ্রহীতাকে পরে অন্য যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণদাতা ব্যাংকের শাখা হতে ঋণ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যসংবলিত বিশেষ অগ্রাধিকার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করে বিকেবি বলেছে, এই কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই পরে ঋণ নিতে পারবেন তিনি। এ ছাড়া বিশেষ অগ্রাধিকার কার্ড পাওয়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কম আনুষ্ঠানিকতা, অল্প সময়ে ও কম সুদে ঋণ দেওয়া নিশ্চিত করা যেতে পারে।
ব্যাংকের আয়োজন করা বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব করে বিকেবি বলেছে, এতে তারা সম্মানিত হবেন। তাদের সফলতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করা যেতে পারে। এতে অন্য ঋণগ্রহীতারাও ঋণ পরিশোধে উৎসাহ পাবে।
বিকেবির তথ্যমতে, ব্যাংকটির মোট ঋণস্থিতি ১৯ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট ঋণের ৮২ শতাংশ কৃষিঋণ।