রাজধানীর ১০ এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ কাল

মেট্রোরেলের কাজের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর কমপক্ষে ১০টি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখবে তিতাস গ্যাস কর্র্তৃপক্ষ। এগুলো হলোÑ রামপুরা, বনশ্রী, শান্তিনগর, কাকরাইল, গুলিস্তান, তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, আজিমপুর, মিরপুরের আংশিক।

তিতাস গ্যাসের পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান জানান, শাহবাগে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে নতুন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। পুরনো লাইনের সঙ্গে নতুন লাইন জুড়ে দিতে ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। 

এদিকে গত শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ায় সিটি গ্যাস স্টেশনে (সিজিএস) পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্তের পর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, শ্যামলী, আগারগাঁও, ধামরাই, আশুলিয়া, আমিনবাজার ও সাভারসহ রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। তবে শনিবার দুপুরের পর কয়েকটি স্থানে বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহ হলেও তা ছিল চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তবে গতকাল সকালে লাইনের মেরামত কাজ শেষ হলেও অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ বিষয় তিতাস গ্যাস কর্র্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হচ্ছে না।

চট্টগ্রামে দুই দিন ধরে গ্যাস সংকট

চট্টগ্রাম ব্যুরো

গ্যাস সংকটে টানা দুদিন চট্টগ্রাম নগরীতে জ্বলেনি রান্নার চুলা। সেজন্য অধিকাংশ এলাকায় খাবারও তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে বিকল্প উপায়ে রান্না বা হোটেলের খাবারে কেউ কেউ আহার সারছেন। কেউ রুটি-বিস্কুট খেয়ে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করেছেন। গতকাল রবিবারও দিনভর ছিল একই চিত্র।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা সিইপিজেডের দক্ষিণ পাশের একটি খালে সিটি করপোরেশনের সংস্কার কাজ চলাকালে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চ চাপের গ্যাসের প্রধান রিং পাইপলাইন কাটা পড়ে। সেখানে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়।

কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে শনিবার বিকেলেই কাজ শুরু করেছেন প্রকৌশলীরা। তবে টেকনিক্যাল কারণে কিছুটা সময় লাগছে। রবিবার রাতের মধ্যে কাজটি শেষ হতে পারে।’

এদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নগরীর লালখান বাজার, জামালখান, আসকারদীঘির পাড়, পতেঙ্গা, হালিশহর, স্টিল মিল, বন্দর, আগ্রাবাদ, মোমিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেউ কেউ বোতলজাত গ্যাস কিংবা লাকড়ির চুলায় রান্নার ব্যবস্থা করেছেন। বেশিরভাগই নির্ভর করছেন রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর। আসকারদীঘির পাড়ের বাসিন্দা আবদুল আলীম জানান, বাসায় গ্যাস না থাকায় খাবারের জন্য হোটেলে দৌড়াতে হচ্ছে। নিচতলার বাসিন্দাদের কেউ কেউ ইট বসিয়ে তাতে কাঠ আর কাগজ পুড়িয়ে রান্নার কাজ সেরেছেন।

ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গ্যাস সংকটে ভোগান্তির কথা তুলে ধরছেন। অনুপম দেবনাথ নামে একজন ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘গ্যাস নেই, তাই রাইস কুকারের খিচুড়িই ভরসা।’ লিটন সবুর লিখেছেন, ‘বাসায় রান্না হয়নি, হোটেলে গিয়েও খাবার মেলেনি, তাই পাউরুটি খেয়েই কাটল পুরো রাত।’