ভারতজুড়ে হামলার শিকার সাধারণ কাশ্মীরিরা

ভারতের বিভিন্ন অংশে অবস্থানরত সাধারণ কাশ্মীরিরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হওয়ার পর এই হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিহার রাজ্যের পাটনা শহরে বসবাসরত কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের একজন বশির আহমেদ এনডিটিভিকে জানান, ‘একদল লোক লাঠিসোটা হাতে আমার দোকানের সামনে হাজির হয়। তারা সেøাগান দিতে থাকে। তখনো পর্যন্ত পুলওয়ামার ওই হামলার ঘটনার কথা জানতাম না আমি। তারা দোকানের জিনিসপত্র ধ্বংস করে আমাকে ও কর্মচারীদের মারধর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩৫ বছর ধরে আমি পাটনায় কাজ করছি। কিন্তু কখনো এ রকম পরিস্থিতিতে পড়িনি। আমি রাজনীতি করি না, আমি এত ব্যস্ত থাকি যে খবর দেখার সময়ও পাই না।’

তবে ভারতজুড়ে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হচ্ছে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা। দেরাদুন পুলিশ এরই মধ্যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। উত্তরাখ-ের রাজধানী দেরাদুনে অল্পকিছু কাশ্মীরি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। হামলার শিকার ছাড়াও অনেক বাড়িওয়ালা তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ারও নোটিস দিয়েছে। তাদের বাড়িতে হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় বাড়িওয়ালারা এসব নোটিস দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

দেরাদুনের এক পুলিশ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, কাশ্মীরের পুলিশ কর্র্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে তাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

পুলওয়ামার হামলা ঘিরে রাজ্যের জম্মু ও কাশ্মীর অংশের মধ্যে বিভেদ দেখা গেছে এবং জম্মুতে জনতার হামলায় অন্তত ৩৭ জন কাশ্মীরি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

এদিকে সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপর হামলা ঠেকাতে জম্মুতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে কাশ্মীরিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার শ্রীনগরসহ কাশ্মীর উপত্যকায় হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা। জম্মুতে পুলওয়ামা ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজন কারফিউয়ের মধ্যেই অনেক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবারের ওই হামলার পর থেকে গত তিন দিন ধরে জম্মু শহরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলার জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা হামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’

এদিকে গতকাল বিহাররাজ্যে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর মনে কতটা আগুন জ্বলছে আমি তা অনুভব করতে পারছি। জেনে রাখুন, যে আগুন আপনাদের বুকে জ্বলছে, আমার বুকেও সেই একই আগুন জ্বলছে।’