জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১০ বছরের সাজাকে যথার্থই বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং শুধু আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও নেতৃত্বের সাফল্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এতিমের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের সাজা কম হয়নি, বরং যথার্থই হয়েছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আড়াই টাকার দুর্নীতিও বড় দুর্নীতি। এদেশে আর দুর্নীতি হতে দেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ডিজিটাল হলে দুর্নীতি অচিরেই কমে যাবে। তবে এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে, যা বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারের রয়েছে।’
বিগত বিএনপি সরকারের আমলের দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত দুই দশকে বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি ফুলেফেঁপে উঠেছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন সম্ভব হয়েছে।’ দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নয়Ñ এমনটি উল্লেখ করে আনিসুল হক জানান, তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠ্যপুস্তকে দুর্নীতিহীন আদর্শের কথা এবং এর ভবিষ্যৎ ফল সম্পর্কে পাঠ যুক্ত করার অনুরোধ জানাবেন।
আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাবার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে রাজনীতির মতো থাকতে দিয়ে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী, কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ।