প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সাত বছর পার হলেও যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে চালু হয়নি লোহাগাড়া উপজেলা ট্রমা সেন্টার। কোনো ব্যবহার ছাড়াই পড়ে আছে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেন্টারটি। ট্রমা সেন্টার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন অন্তত ২০-২৫ জন সাধারণ রোগীসহ হাড়ভাঙা রোগী এ হাসপাতালে ছুটে আসেন। কিন্তু সেন্টারটি চালু না হওয়ায় এসব রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় মানুষ। সময়মতো চিকিৎসা পেতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মাঝামাঝি লোহাগাড়ায় ২০০৭ সালের জুন মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ট্রমা সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। তিনতলা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে রয়েছে ২০টি শয্যা। এর মধ্যে বিশেষ কেবিন (ভিআইপি) দুটি এবং সাধারণ শয্যা ১৮টি। ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) মো. হানিফ জানান, লোহাগড়ার এই ট্রমা সেন্টার উদ্বোধন করা হলেও কোনো প্রকার যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং জনবল না থাকায় সেন্টারটি চালু করা যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন অর্থোপেডিক সার্জারি চিকিৎসক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জরুরি রোগীদের সপ্তাহে তিন দিন ট্রমা সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, গত তিন মাসে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আটজন গুরুতর আহত হন। লোহাগাড়া উপজেলার ট্রমা সেন্টারটি চালু থাকলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাকবলিত লোকজন তাৎক্ষণিক সুচিকিৎসা পেত। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ট্রমা সেন্টারটি চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন।