ফোরজি ইন্টারনেট

ন্যূনতম গতিও নিশ্চিত হয়নি

মুঠোফোনে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা তথা ফোরজিতে ন্যূনতম গতি নিশ্চিত করতে পারছে না শীর্ষ অপারেটররা। কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস (কিউওএস) নীতিমালা অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেটে ফোরজিতে ডাউনলোডের ন্যূনতম গতি হবে ৭ এমবিপিএস। তবে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সে গতি নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে।  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশিত মোবাইল অপারেটরস কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস (কিউওএস) ড্রাইভ টেস্টের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে শুধু ঢাকা শহরে প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফোরজি সেবা থাকা মুঠোফোনে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনে ৫ দশমিক ৮৮ এমবিপিএস, রবিতে ৫ দশমিক ৯১ এমবিপিএস ও বাংলালিংকে ৫ দশমিক ১৮ এমবিপিএস গতি পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে মানসম্মত ইন্টারনেটের গতি দিতে পেরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। তবে আপলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড উতরে গেছে তিন অপারেটরই।

ফোরজিতে ন্যূনতম ইন্টারনেট গতি দিতে না পারলেও টুজি ও থ্রিজিতে মানসম্মত ইন্টারনেট গতি নিশ্চিত করতে পেরেছে শীর্ষ তিন অপারেটর। তবে টুজিতে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট গতি দিতে পারেনি টেলিটক।

কিউওএস নীতিমালায় বলা হয়েছে, থ্রিজি ইন্টারনেটের গতি হতে হবে ন্যূনতম ২ এমবিপিএস। আর টুজি ইন্টারনেটে ডাউনলোডের ন্যূনতম গতি হতে হবে ১৬০ কেবিপিএস।

কিউওএস ড্রাইভ টেস্টের ফলাফল অনুযায়ী, দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে কলড্রপে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। অপারেটরটির কলড্রপের হার ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যদিও বিটিআরসি নির্ধারিত মানদণ্ডে বলা হয়েছে, কোনো অপারেটরের কলড্রপের হার ২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

কলড্রপ সবচেয়ে কম হয় বাংলালিংকে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ। রবি ও টেলিটকে কলড্রপের হার যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বিটিআরসি বলছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চালানো পরীক্ষার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ পরীক্ষা চালানো হয়। কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস নীতিমালার ভিত্তিতে এ পরীক্ষা চালানো হয়। ইন্টারনেট গতি, কলড্রপ ছাড়াও আরও কিছু সেবার মানও এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে বিটিআরসির যে কিউওএস নীতিমালা রয়েছে, তাতে মানদণ্ড অর্জন করতে না পারলে জরিমানার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিউওএস নীতিমালা অনুযায়ী মোবাইল ফোনে মানসম্মত সেবার ক্ষেত্রে যে বেঞ্চ মার্ক নির্ধারণ করে দেওয়া আছে, তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে টেলিটকই ইন্টারনেটে পর্যাপ্ত গতি দিতে পারছে। অথচ শীর্ষস্থানীয়রা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক দিন ধরেই কলড্রপে গ্রামীণফোন শীর্ষে রয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব অপারেটরের কলড্রপের যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল বিটিআরসি, সেখানেও শীর্ষে ছিল অপারেটরটি। এক বছরে গ্রামীণের কলড্রপের পরিমাণ ছিল ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ বার।

গতকাল জারি করা নির্দেশনায় কলড্রপের হার মাসে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বিটিআরসি। এক্সক্লুসিভিটি বিষয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র ও একক স্বত্বাধিকার চুক্তি সম্পাদন থেকে বিরত থাকতে হবে গ্রামীণফোনকে। এ ছাড়া কোনো মাধ্যমে দেশব্যাপী মার্কেট কমিউনিকেশন করা যাবে না। 

এদিকে গ্রামীণফোনকে দেশের তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী বা সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) হিসেবে ঘোষণা করার পর করণীয় ও বর্জনীয়সংক্রান্ত নির্দেশাবলি জারি করেছে বিটিআরসি।