জবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ৭ সাংবাদিক আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির কর্মীদের সঙ্গে নতুন কমিটির পদপ্রত্যাশীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সেই সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ৭ সাংবাদিক।

সরেজমিনে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল দুপুর ১২টা থেকে নতুন কমিটির পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় স্থগিত কমিটির তরিকুল-রাসেল গ্রুপের। বিকেলে তারা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পদপ্রত্যাশীরা বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের বিপরীতে বাহাদুর শাহ পার্কের দিকে এবং তরিকুল-রাসেলের কর্মীরা ফটকের কাছে অবস্থান নেন।

হামলায় তরিকুল ওরফে দাদা গ্রুপের কর্মী সপ্তম ব্যাচের তরিকুল রিমন, নবম ব্যাচের লিখন, সপ্তম ব্যাচের মাসুম বিল্লাহ, তৌসিফ মাহবুব সোহান, এস কে মিরাজ, শাহরিয়ার শাকিল, কম্পিউটার সায়েন্সের ফাহিম, মনোবিজ্ঞানের আবিদ আল হাসান, সমাজকর্ম দ্বাদশ ব্যাচের কিবরিয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের ডেভিড, সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মুসা, মফিজুর রহমান হামিম, শাহরুখ শোভন, মিলন মাহফুজসহ প্রায় ৫০ জন রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি, পিস্তল ও শটগান নিয়ে হামলা চালান।

অপরদিকে জয়নুল আবেদীন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে পঞ্চম ব্যাচের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল, নবম ব্যাচের শাকিল, ফারুক, অষ্টম ব্যাচের আলী হাসান, সপ্তম ব্যাচের নাদিম, নবম ব্যাচের মারুফ, কামরুল, দশম ব্যাচের তানভীর চাপাতি, কুড়াল, হকিস্টিক, হাতুড়ি, শটগান ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালান।

ওই সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হন সাত সাংবাদিক। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের লতিফুল ইসলাম, বিডি২৪ রিপোর্ট ডটকমের সানাউল্লাহ ফাহাদ ও জয়নুল আবেদীন। এ চারজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। লতিফুল এখনো ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কী হচ্ছে, তা আমরা জানি না। এটা জানার কথা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। কারা, কী করছে সেটার দায় আমাদের ওপর এখন বর্তায় না।’ অন্যদিকে স্থগিত কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে কলটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে জবি প্রক্টর নূর মোহাম্মদকে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজয়ানুল হক শোভন বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর আঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের (জবি ছাত্রলীগ) একবার স্থগিত করে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’