সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছেলেসন্তানের জন্ম দিলেন ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম। তার পারিবারিক আইনজীবীর বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯ বছরের শামীমার এটি তৃতীয় সন্তান। তার আগের দুটি সন্তানই অপুষ্টি ও বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে আরও দুজন বান্ধবীসহ শামীমা বেগম আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডস থেকে আসা একজন আইএস যোদ্ধাকে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিলেন তিনি।
গত সপ্তাহে লন্ডনের দৈনিক দ্য টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান। ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে শামীমা ব্রিটিশ সরকারের কাছে তার অনাগত সন্তানের কথা বিবেচনা করে যেন ফিরে আসতে দেওয়া হয় বলে আবেদন করেন। শামীমা বেগমের পরিবার আবেদনে বলেছে, শিশুটি তো নিরপরাধ, শিশুটির নিরাপত্তার জন্য মানবিক কারণে তাদের মেয়েকে ব্রিটেনে ফিরতে দেওয়া হোক। তবে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এ বিষয়ে।
ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী জেরেমি রাইট বিবিসিকে বলেছেন, ‘শামীমা বেগমের সন্তানের নাগরিকত্ব সোজাসাপ্টা কোনো বিষয় নয়। শামীমাকে তার কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি করতে হবে। সে যদি এদেশে ফিরে আসতে পারেও, তাকে বুঝতে হবে সে যা করেছে তার জন্য তাকে জবাব দিতে হবে।’ কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, আইএসে যোগ দিতে যাওয়া তরুণ-তরুণীরা যাতে না ফিরতে পারে তার চেষ্টা করে যাবেন তিনি।
গত রবিবার শামীমা বেগমের পারিবারিক আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি জানান, তারা জানতে পেরেছেন শামীমা একটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন। শিশুটি সুস্থ আছে। এখনো শামীমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি। আশা করছি তাড়াতাড়ি তা করা সম্ভব হবে।