চার বছর পর ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় ছয়জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চূড়ান্ত করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেলেও নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় পাঁচজন ও মৃত্যু হওয়ায় একজনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের জন্য অভিযোগপত্রটি গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি-প্রধান মনিরুল ইসলাম।
ওই ছয় আসামি হলেন সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক (৪২) ওরফে মেজর জিয়া (চাকরিচ্যুত মেজর), সাংগঠনিক নাম সাগর ওরফে বড় ভাই; আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আবদুল্লাহ (৩০); মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার; মো. আবু সিদ্দিক সোহেল (৩৪), সাংগঠনিক নাম সাকিব, সাজিদ, শাহাব; মো. আরাফাত রহমান (২৪), সাংগঠনিক নাম সিয়াম, সাজ্জাদ এবং শাফিউর রহমান ফারাবী (২৯)।
গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি-প্রধান বলেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জিয়া। তিনিসহ আরেক হত্যাকারী আকরাম হোসেন পলাতক। বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এ মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৭ আসামির মধ্যে ফারাবীকে চার্জশিটে উসকানিদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাকিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, তদন্তকালে এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ১২ জনের সম্পৃক্ততা পায় সিটিটিসি। সম্পৃক্ত অপর পাঁচ আসামির শুধু সাংগঠনিক নাম জানা যায়। পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদেরকে বাদ দিয়ে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
এ মামলার তদন্ত সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়। তিন বছর মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিটিটিসি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সায়মন, সোহেল ও আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনের নাম-ঠিকানা যাচাই করে তাদের পলাতক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনাদানকারী হিসেবে ফারাবীকে গ্রেপ্তারপূর্বক অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পৃক্তদের মধ্যে মো. মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি প্রথমে পেনাল কোডে রুজু হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (আনসার আল ইসলাম) সদস্য হওয়ায় মামলাটির অভিযোগপত্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রস্তুত করা হয়েছে।’