বেপরোয়া ইয়াবা বাহিনী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বেপরোয়া ইয়াবা সম্রাট খ্যাত নিজাম উদ্দিন ও তার ইয়াবা বাহিনী। প্রকাশ্যে মাদক কারবারের কথা স্বীকার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে জিরতলী এলাকার এই মাদক কারবারি। নোয়াখালী ছাড়িয়ে লক্ষ্মীপুর জেলাতেও রয়েছে তার মাদকের বিস্তার। মাদক কারবার প্রসঙ্গে তার দম্ভোক্তি, এজন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রায় তিন লাখ টাকা মাসোহারা দিচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, জিরতলী এলাকার নিজাম উদ্দিন এলাকায় ইয়াবা নিজাম হিসেবে পরিচিত। উপজেলার বারইচতলের রিয়াজ, দক্ষিণ ফাজিলপুরের সজিব, খালপাড়ের সুমনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের ক্যাডার বাহিনী নিয়ে গড়ে তুলেছেন ইয়াবা বাহিনী। নিজামের নেতৃত্বে এলাকায় ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি করে তার দলের সদস্যরা। এসব অপরাধে কয়েকবার গ্রেপ্তারও হন। তারপর তিনি দুবাই পাড়ি দেন। দুবাইতে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ায় তাকে বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে আবার তার ক্যাডার বাহিনীকে সংগঠিত করে ইয়াবা কারবার শুরু করেন।

এ ব্যাপারে নিজামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দম্ভোক্তি করে জানান, প্রতি মাসে র‌্যাব-১১-কে ১ লাখ, নোয়াখালী ডিবি পুলিশকে ৫০ হাজার, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে ৫০ হাজার, চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশকে ৫০ হাজার, চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশকে ৩০ হাজার টাকা করে মাসোহারা দেন। তিনি আরও জানান, প্রায় রাতেই পেট্রোল পুলিশ তার বাড়িতে রাতের খাওয়া খায়। অবশ্য র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর, চন্দ্রগঞ্জ পুলিশ, বেগমগঞ্জ ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা নিজামের এসব দাবি অস্বীকার করে বলেন, তারা প্রায়ই নিজামের আস্তানা ফেনাঘাটায় অভিযান চালান। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ মোল্লা জানান, নিজাম বাহিনী মাদকের কারবার করে এবং বেগমগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। কয়েক বার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার মাদক কারবার শুরু করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিজাম শুধু বেগমগঞ্জ নয়, লক্ষ্মীপুর জেলাতেও মাদক কারবার চালাচ্ছেন। বেগমগঞ্জ পুলিশ ধাওয়া করলে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় পালিয়ে যান। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি জানান, নিজাম ও তার বাহিনী নোয়খালী পুলিশের দুর্বলতার কারণে প্রকাশ্য মাদকের ব্যবসা চালাচ্ছেন। তবে নোয়াখালী পুলিশের কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নোয়াখালী ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজামের ইয়াবা কারবারের পেছনে বড় বড় গডফাদার রয়েছে। যার জন্য তাকে একবার আটক করার পর পথিমধ্যে ছেড়ে দিতে হয়েছে। নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ বলেন, মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। মাদক কারবার ও এ কারবারে কেউ সহযোগিতা করলে কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।