মাগুরার মহম্মদপুর সরকারি আরএসকেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ফান্ডের প্রায় কোটি টাকা ইচ্ছেমতো খরচ করে দুর্নীতি করেছেন বলে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম এ কে এম নাসিরুল ইসলাম। তিনি ফান্ড থেকে ৭২ হাজার ২০ টাকার সিগারেট, ২১ হাজার ৫ টাকার পান ও এক হাজার ৪৮২ টাকার বিস্কুটের দাম পরিশোধ করেছেন স্থানীয় একটি দোকানে। সম্প্রতি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে নানা নথিপত্র ঘেঁটে এসব দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান। ঘটনা তদন্তে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে একাধিক
উপকমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম স্কুলের চারজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যে করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা, স্কুলের জায়গায় মার্কেটের ঘর বরাদ্দ, গাছ বিক্রি, মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে টাওয়ারের জন্য ভাড়ার টাকা তছরুপ করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিদ্যালয়ের নানা নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে আর কিছু জানি না। আমি কোনো দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত নই।’
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা শহরে অবস্থিত আরএসকেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী স্কুল ফান্ডের অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে স্কুলের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র হাতে পেয়ে ইউএনও স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয় সংক্রান্ত নথিপথ সংগ্রহ করে দেখেন, প্রধান শিক্ষক ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়ের একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু মাত্র একটি অ্যাকাউন্ট যাচাই বাছাইকালে দেখা যায়, গত এক বছরে প্রধান শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম বিদ্যালয় এলাকার লাল মিয়ার দোকান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার ৩৭ টাকার মালামাল কিনেছেন যা স্কুল ফান্ড থেকে মেটানো হয়েছে। খরিদকৃত ওই সব মালামালের মধ্যে তিনি ৭২ হাজার ২০ টাকার সিগারেট, ২১ হাজার ৫ টাকার পান পাতা এবং এক হাজার ৪৮২ টাকার বিস্কুট কিনেছেন। অথচ উপজেলার নামি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে খাতা ক্রয়ের জন্যে ব্যয় করেছেন মাত্র ৩৬০ টাকা এবং কলমের জন্য ৪৩০ টাকা।
আবুল হোসেন নামে একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, দোকানঘর ভাড়া, শিক্ষার্থীদের বেতনসহ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় আছে; যা ব্যাংকিং পদ্ধতিতে না গিয়ে ইচ্ছেমতো খরচ করেন প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, তিনি বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের ঘোষণার পর কোনো নিয়ম তোয়াক্কা না করে ভাগ্নে শামীম হোসেন ও ছোট বোন শিরিনা খাতুনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সব কটি অ্যাকাউন্ট এখনো যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়নি। তবে বিদ্যালয় তহবিলের মোটা অঙ্কের টাকা তছরুপ করেছেন প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম। স্কুল খরচের ভাউচার থেকে পান সিগারেট বাবদ প্রায় লাখ টাকা ব্যয় করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য যাচাই বাছাই শেষ হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকাজ অতিদ্রুত সম্পন্ন করার জন্য উপকমিটি করা হয়েছে।’