কাশ্মীর ইস্যুতে চূড়ান্ত হার্ডলাইনে ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। কাশ্মীরে কেউ অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই তাকে গুলি করা হবে বলে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল কানওয়াল জিত ধীলন। এই হুঁশিয়ারির মাধ্যমে ভারত কাশ্মীর সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে একাধিক ভারতীয় মিডিয়া। সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ধীলন জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিকদের হস্তক্ষেপ না করার হুমকিও দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কাশ্মীরের সব মাকে অনুরোধ করছি তাদের সন্তানরা যাতে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত না হয়। জড়িতরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।’ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে বেসামরিকদের জানমালের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেসামরিক এলাকায় যখন বন্দুকযুদ্ধ হয়, তখন জনসাধারণকে আমরা নিরাপদে থাকতে বলি। অভিযান পরিচালনার আওতায় থাকা এলাকা ঘেরাও করে রাখি। মানুষকে বলি, তারা যেন বাড়িতেই থাকে এবং এ ব্যাপারে মাথা না ঘামায়। বেসামরিক নিহতের সংখ্যা সীমিত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’ এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরেই কাশ্মীরে ঢুকে পড়েছিল জইশ-ই-মোহাম্মদের ২১ সদস্যের একটি দল। ওই দলে তিন আত্মঘাতী সদস্য ছিল। তারা কাশ্মীর ছাড়া আরও দুই জায়গায় তিনটি আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর কাশ্মীরে ভারতের কঠোর অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাপক মাত্রায় সামরিকায়ন, নিরাপত্তা তল্লাশির সূত্রে হওয়া নির্বিচার হয়রানি ও স্বশাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে।
কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক পথে কাশ্মীর সংকটের সমাধান আসবে না। তবু বলপ্রয়োগের নীতির পথেই এগোচ্ছে ভারত। যদিও বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে বল প্রয়োগের বাইরে কোন পন্থায় কাশ্মীরে শান্তি ফিরতে পারে এমন কোনো ইঙ্গিত বা প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি।
ফাইনানশিয়াল টাইমসের এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই পদক্ষেপ নিতে চাইছে ভারত। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম সদস্য চীনের ভেটোর কারণে মাসুদ আজহারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া যাচ্ছে না। পুলওয়ামাতে হামলার পর ভারতীয় বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, পেইচিং আজহারকে সুরক্ষা দিচ্ছে তাদের স্বার্থে। বিশ্লেষক আরকে মিশ্র টুইটবার্তায় বলেন, ‘নয়া দিল্লি ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনকে চাপ দেওয়া। ভারতীয়রা চীনা ফোন ছাড়াও চলতে পারে।’
বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই আত্মঘাতী হামলায় রিজার্ভ পুলিশের ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হওয়ার পর সেখানে কারফিউ জারি করা হয়। এরই মাঝে গত শনিবার (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি) নতুন করে একজন ঊর্ধ্বতন সেনা-কর্মকর্তা নিহত হন।