বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় কর্মকর্তাকে তলব

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ শিরোনামের বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না থাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে বইটির সম্পাদনা পরিষদের প্রধান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বইটি বাজারে থাকলে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। হাইকোর্ট বলেছে, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপা হয়নি, বইয়ে কেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি ছাপা হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেন বিকৃত হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে আগামী ১২ মার্চ শুভঙ্করকে আদালতে হাজির হতে হবে। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।

এর আগে গত সোমবার এই বইয়ের ওপর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি থাকায় উষ্মা প্রকাশ করার পাশাপাশি এতে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে বলে মতামত দেয় তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বইতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ থাকলেও ঘোষণার তারিখ (২৬ মার্চ ১৯৭১) উল্লেখ নেই। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার বিষয়েও বইতে উল্লেখ নেই, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ থাকলেও ভাষণ দেওয়ার স্থান রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কথা উল্লেখ নেই।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার না করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ অক্টোবর বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করতে অর্থ সচিবকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয় আদালতের আদেশে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।