রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি দখলের চেষ্টা এবং এতে বাধা দেওয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালের ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। এছাড়া হামলার শিকার হওয়া মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মুক্তিযোদ্ধা মোজাহারুল ইসলামের অভিযোগ, মোল্লাপাড়ায় তার, স্ত্রী ও মেয়ের নামে প্রায় আট কাঠা জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার ভাগ্নে মিলন ওই জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রাতে বিবদমান জমিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে সে। এ ঘটনায় থানায় একাধিকবার জিডি ও মামলা করেও সুরাহা হয়নি। পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মিলন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ইন্ধনে তাদের জমি দখলের অপচেষ্টা করছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও মিলন তা মানছে না। মঙ্গলবার সকালে মিলন ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে তার স্ত্রী মনোয়ারা ইসলাম এবং মেয়ে নারী উদ্যোক্তা উরুশি ও পলিসহ ১৫-২০ নারী ঘটনাস্থলে যান। তারা মিলনকে ঘর নির্মাণে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় বিশাল রাজ নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকও আহত হন।
আহত সাংবাদিক রাজ জানান, মোল্লাপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান। হঠাৎ মিলন ও তার ভাই-ভাতিজাসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও মেয়েকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। মিলন ও তার ভাতিজা তুষার লাঠি দিয়ে তার বাম পায়ে আঘাত করে বলে জানান রাজ। বিষয়টি তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়ের আলমকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। আরএমপির ডিসি আমির জাফরকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশ পাঠান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষের লোকজনকে আটক করে। পরে হামলার ঘটনায় কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা করেন রাজ।
উরুশি বলেন, ‘আমাদের কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে দুপক্ষের কেউ জমিতে যাবে না মর্মে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ অভিযুক্ত মিলন জানায়, মুক্তিযোদ্ধা মোজাহারুল তার আপন মামা। সেখানে নানা-নানি ও তার ক্রয় করা কিছু জমি আছে। সেটাতে ঘর তুলতে গেলে গণ্ডগোল হয়। বিষয়টি থানার ওসি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মুহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ বলেন, সাংবাদিককে মারধরকারী তুষারকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিরোধকারী দুপক্ষকে আটক করে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কেউ জমিতে দখলে যাবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।