এনটিএমসি থেকে ফোন ও অনলাইনের তথ্য পাবে সব বাহিনী

অপরাধীদের তথ্য যাচাই করতে এনটিএমসির (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) সহযোগিতা নিতে পারবে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পুরাতন তেজগাঁও বিমানবন্দর সংলগ্ন এনটিএমসি কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ স্টেশন। গতকাল বুধবার এনটিএমসি কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এনটিএমসিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করা হবে। এখন থেকে সব সংস্থাকে এক জায়গা থেকে তথ্য প্রদান করা হবে। বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে।’

বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন ব্যক্তির ফাঁস হওয়া টেলি কথোপকথন এনটিএমসি সরবরাহ করেনি বলে জানিয়েছেন এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, ‘ওইসব কল রেকর্ড বিক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি কথা বলার সময় রেকর্ড করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এখন কেউ যদি মনে করে, তার সম্মানহানি হয়েছে তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।’

এনটিএমসি এখন থেকে সব নাগরিকের মোবাইল কথোপকথন রেকর্ড করবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য থাকবে, যারা অপরাধী এবং যারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেÑ এমন ব্যক্তিদেরকেই পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। এর বাইরে কাউকে আনা হবে না। এরপরও এখান থেকে কোনো তথ্য মিসইউজ করা হবে না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সবকিছু করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের গুজব বন্ধে এনটিএমসির সঙ্গে বিটিআরসিও কাজ করছে। এরই মধ্যে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেসব ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, তা সেন্ট্রালাইজ পদ্ধতিতে বন্ধ করা হয়েছে। এনটিএমসিতে সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের রাখা হয়েছে। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের যার যা তথ্য লাগবে তা এখান থেকে নিতে পারবেন।’

অপরাধী শনাক্তকরণ ও যোগাযোগমাধ্যমসমূহ মনিটরিংয়ের জন্য এনটিএমসিতে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও সরকারের কার্যক্রমকে সুসংহত করতে ‘ইনটিগ্রেটেড ল’ফুল ইনটারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস) বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের একটি টেলিকমিউনিকেশন ডেটাহাব তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। যেখান থেকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে চাহিদামতো তথ্য সরবরাহ করা হবে। তাছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ‘জাতীয় ডেটাহাব’ তৈরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে ডেটাহাবে জাতীয় পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স (বিএফআইইউ), মোবাইল ব্যাংকিং, শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যুক্ত করা হবে। এখান থেকে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে সুবিধা পাবে যার জন্য নিজস্ব আলাদা ডেটাহাবের প্রয়োজন হবে না।