ভাষা আন্দোলনের বই মাত্র ৯টি

প্রতিবার মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের প্রবেশদ্বারে ঢুকতেই চোখে পড়বে পাঁচ ভাষাশহীদের প্রতিকৃতি। এবারের মেলার স্লোগানÑ ‘৫২ থেকে ৭১, নবপর্যায়’। একুশের চেতনাকে ধারণ করা বইমেলায় প্রতিদিনই শতাধিক বই প্রকাশ হলেও ভাষা আন্দোলন নিয়ে নেই উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী বই।

এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার নতুন বই প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ৯টি বই। প্রকাশকেরা বলছেন, ভালো পাণ্ডুলিপি না পাওয়ার কারণেই প্রকাশ হচ্ছে না এ ধরনের বই। প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’-এর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, ‘ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পাণ্ডুলিপির অভাবে ভাষা আন্দোলন নিয়ে বই প্রকাশ করতে পারিনি। ভাষা আন্দোলন নিয়ে বই লেখা বেশ গবেষণালব্ধ এবং সৃজনশীল কাজ। ভালো পা-ুলিপি পেলে বই প্রকাশ করতে আমাদের আপত্তি নেই।’

এবারের মেলায় প্রথমা প্রকাশন এনেছে আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন : টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’। ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার দরকার আছে। কিছু বই প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে গবেষণার ত্রুটি রয়েছে। ইতিহাস না জানলে এ বিষয়ে লেখা যায় না। ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিখতে গেলে প্রচুর গবেষণার দরকার, সেই সঙ্গে ইতিহাস জানাটাও জরুরি।’

অন্যপ্রকাশ এনেছে গোলাম কুদ্দুছের লেখা ‘ভাষা আন্দোলন সহজ পাঠ’ নামে একটি বই। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘এই বইটি মূলত ছোটদের কথা ভেবে লেখা। বইটির মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’ আগামী প্রকাশনী এনেছে সৈয়দ জাহিদ হাসানের ‘সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলন ও পাবনায় ভাষা আন্দোলন’, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ এনেছে সুফিয়া বেগমের ‘ভাষা সংগ্রামী নারীরা, নালন্দা এনেছে সোহেল মল্লিক সম্পাদিত ‘ভাষা আন্দোলনের নির্বাচিত ৫০ কিশোর গল্প, বটেশ্বর বর্ণন এনেছে সুমাইয়া খানমের ‘ভাষা-আন্দোলন ও বাংলাদেশের কথাসাহিত্য’, এশিয়া পাবলিকেশন্স এনেছে ইসমাইল হোসেন বকুলের ‘রক্তের কারাগারে বন্দী ৮ই ফাল্গুন; ভাষা আন্দোলন ও রক্তঝরা একুশ’ এবং ড. গুলশান আরার ‘ভাষা আন্দোলনের কথা’, কবি প্রকাশনী এনেছে শারমিন সুলতানার লেখা গল্পগ্রন্থ ‘২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮’।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার মেলায় এসেছে ১৩৮টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ২৪টি, উপন্যাস ১৮, প্রবন্ধ ৯, কবিতা ৪৭, গবেষণা ২, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ৫, মুক্তযুদ্ধবিষয়ক ৬, নাটক ১, ভ্রমণবিষয়ক ৩, ইতিহাসবিষয়ক ২, রাজনীতি ২, স্বাস্থ্যবিষয়ক ১, সায়েন্স ফিকশন ১, ধর্মীয় ১, অভিধান ১, অনুবাদ ১ ও অন্যান্য ৯টি। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে বেহুলা বাংলা এনেছে জুয়েল মাজহারের কবিতার বই ‘কবিতার ট্রান্সট্রোমার’ ও ইমাম মেহেদীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার নারী’, অনার্য এনেছে তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্রবিষয়ক বই ‘চলচ্চিত্র নন্দনতত্ত্ব ও বারোজন ডিরেক্টর’, য়ারোয়া এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘সুভাষিত’।

একুশে ফেব্রুয়ারিতে সকাল থেকেই মেলা : আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বইমেলা চলবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষের সমাগম হবে বইমেলায়। এমনটাই মনে করছেন প্রকাশকরা। এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় মেলার মূল মঞ্চে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর আয়োজন করবে বাংলা একাডেমি। সভাপতিত্ব করবেন কবি অসীম সাহা। এ ছাড়া বিকেল ৪টায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা। একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন ভাষাসংগ্রামী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।