নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নোয়াখালীর নাটেশ্বরে শোকের মাতম

চুড়িহাট্টায় আগুনে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে মাতম চলছে। ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন নিহতের মধ্যে ৩৪ জনের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হতাহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। কেউ কেউ স্বজনদের কোনো সন্ধানই পাচ্ছেন না। তারা বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন তাও জানেন না। ঘোষকামতা গ্রামের খাসের বাড়িতে এক পরিবারের সহোদর মাসুদ রানা ও রাজু পুড়ে মারা গেছেন। নিহতদের এক চাচা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে থাকেন নিহতদের এক চাচা। তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলেই মরদেহ আনা হবে। একই ইউনিয়নের বটতলীর সাহাদাত হোসেন হিরা, মির্জানগরের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নাছিরউদ্দিনের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যেক বাড়িতে স্বজনরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আহাজারি করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, শুধু নাটেশ্বর ইউনিয়নের কয়েক শ লোক ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে নাটেশ্বরের আরো অনেকে থাকতে পারেন। সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কামাল ৩৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চকবাজারের বাসিন্দা সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউপির মিলন বলেন, ঘটনার সময় নিহতরা সবাই ভবনগুলোতে ছিলেন। আগুন লাগার পর তারা বের হতে পারেননি। 

নিহত ৩৪ জনের মধ্যে ছয়জনের নামপরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউপির মির্জানগর গ্রামের মমিন উল্যাহর ছেলে শাহাদাত হোসেন হিরা, গাউছ মিয়ার ছেলে নাছিরউদ্দিন, আবদুর রহিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ঘোষকামতা গ্রামের সহোদর ভাই সাহাব উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা ও রাজু এবং বারগাঁও ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন। অন্য মরদেহগুলো আগুনে পুড়ে বিকৃত হওয়ায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। উপজেলার নাটেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন খোকন বলেন, নাটেশ্বর ইউপির সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, নাটেশ্বরের সাতজনের নামপরিচয় জানা গেছে। বাকিদের বিষয়ে অফিশিয়ালি কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। চকবাজারের ব্যবসায়ী সোনাইমুড়ীর নজরপুরের ফজর আলী মোবাইল ফোনে জানান, এ অঞ্চলের চকবাজারে বসবাসকারী হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তারা হাসপাতালে আহত রোগীদের চিকিৎসা ও মর্গে ছোটাছুটি করার কারণে সব নিহতের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে পারেননি।