লাশ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঁচটি ফ্রিজ আছে। এর মধ্যে তিনটি ফ্রিজ অন্তত পাঁচ মাস ধরে অকার্যকর। সচল দুটি ফ্রিজের মধ্যে একটি জঙ্গিদের লাশ রাখার জন্য নির্ধারিত। ফলে মর্গের একটি ফ্রিজে এখন শুধু চারটি লাশ রাখার সুযোগ আছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বড় দুর্ঘটনায় লাশ রাখতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে। গত বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পাঁচ নারী ও চার শিশুসহ ৬৭ জনের মধ্যে ময়নাতদন্তের পর ২২টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি লাশের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৪০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। সেসব লাশ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়োজন নেই। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মর্গের পাঁচটি ফ্রিজের মধ্যে তিনটি গত-পাঁচ ছয় মাস ধরে নষ্ট রয়েছে। যে দুটি ভালো আছে, তার একটি আবার জঙ্গিদের লাশ রাখার জন্য। বাকিটিতে চারটি লাশ রাখা যাবে। যেসব লাশ শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হবে, সেগুলো সংরক্ষণে সোহরাওয়ার্দীসহ অন্য হাসপাতালের সহায়তা লাগতে পারে। নষ্ট ফ্রিজগুলো মেরামতের বিষয়ে ‘ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে বার বার বলেও’ কোনো লাভ হয়নি বলে জানান এই চিকিৎসক। এ বিষয়ে মর্গের ইনচার্জ সেকেন্দার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফ্রিজ না থাকায় কিছু লাশ বরফ দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। তবে এভাবে বেশি দিন রাখা যাবে না। ‘ক্যাপাসিটি’ না থাকায় অন্যান্য হাসপাতালে লাশ পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, মর্গে কাজের সুষ্ঠু কোনো পরিবেশ নেই। চারটি এসিও নষ্ট রয়েছে। ২০১০ সালে নিমতলীতে আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়ও জায়গার সঙ্কুলান না হওয়ায় লাশ মর্গের সামনের মাঠে রাখা হয়েছিল।