চকবাজারের চুড়িহাট্টায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা শুধু মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করতে পারি। আর যারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা কতবার এমন শোক করতে থাকব? ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে ফেলার দাবি উঠেছিল খুব জোরেশোরেই। সে সময় তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কাজটি সম্পাদন হয়নি আজও! তাই বলা যায়, নিমতলী থেকে শিক্ষা না নেওয়ার পরিণতিতেই চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড ঘটল। এজন্য যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করা হয়, তাহলে কি ভুল হবে? আর কয়টি অগ্নিকাণ্ডের পর কর্র্তৃপক্ষের টনক নড়বে? পুরান ঢাকাবাসীকে এই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হবে আর কতদিন? আমরা আশা করব, চুড়িহাট্টার মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে টনক নড়বে কর্র্তৃপক্ষের। পুরান ঢাকা থেকে অনতিবিলম্বে সব রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়া হবে। আরও মনে রাখা দরকার, বছরের এ মৌসুমটি অগ্নিকাণ্ডের জন্য অনুকূল সময়। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বোপরি বলতে চাই, এমন দুর্ঘটনায় শুধু শোক পালনই যথেষ্ঠ নয়, শিক্ষাগ্রহণ করাই বেশি জরুরি।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।