রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৯ জনের ৬ জনই আইসিইউতে রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গতকাল জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, তাদের অধিকাংশের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শরীরের অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য বার্ন ইউনিটে ১৮ জনকে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৯ জন ভর্তি রয়েছে। তাদের কেউই আশঙ্কামুক্ত নয়। এদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন আনোয়ার হোসেন (৫৫), মাহমুদুল (৫২), সেলিম (৪৪), হেলাল (১৮), রেজাউল (২১), জাকির (৩৫), মোজাফফর মিয়া (৩২), সোহাগ (২৫), সালাউদ্দীন (৪৫)। এদের মধ্যে সোহাগের শরীরের ৬০ শতাংশ ও রেজাউলের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার মধ্যরাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৫৫)। সারা শরীরে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় শুয়ে আছেন। তার মেয়ে বীথি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বাবা রিকশাচালক। তিন ভাইসহ তারা কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। রাতে তার বাবা নিজেই বাসায় ফোন করে আগুন লাগার কথা জানান। বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে চকবাজার মোড়ে এসে যানজটে আটকে যান তার বাবা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের ফুলকি এসে গায়ে পড়ে। আগুন নেভাতে মাটিতে গড়াগড়ি করতে থাকেন। ততক্ষণে পুড়ে গেছে শরীরের বেশিরভাগ অংশ। রিকশাটিও পুড়ে ছাই।
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বাইরে দিনমজুর আবু তাহেরকে (৬৫) দেখা যায় আহাজারি করতে। তার ছেলে সোহাগ (২২) রয়েছেন আইসিইউতে। মা বেদানা বেগম (৫৫) ছেলের সঙ্গে রয়েছেন, বাইরে আছেন বাবা তাহের। চকবাজারের ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে যে ৯ জন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন তার মধ্যে সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে রাতেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসক হোসাইন ইমাম। সোহাগের দেহের ৬০ শতাংশ পুড়েছে। বেদানা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে চকবাজারের একটি পারফিউমের দোকানে চাকরি করত।’