‘আলাদা’ প্যানেল দেবে কোটা আন্দোলনকারীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদে আলাদা প্যানেলে নির্বাচন করবে কোটা সংস্কার দাবিতে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার রাতে পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা জানান, কোটা আন্দোলনের নেতাদের নিজেদের প্যানেলে আনতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামসহ কয়েকটি সংগঠন। 

বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ডাকসু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছে, তার মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে দেওয়া ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। এসব দাবি আদায়ে প্রয়োজনে অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে। তবে নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবেই করা হবে। বিভিন্ন পদে মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা পরিচিত মুখ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তারা থাকবে, এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে, যেমন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা, প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে, অধিভুক্ত আন্দোলনে যারা আন্দোলন করেছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রথম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সম্পূর্ণ প্যানেলে মেয়েদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

প্যানেলে ভিপি-জিএসসহ অন্য পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। সেই উপদেষ্টা পরিষদ বিভিন্ন পদে মনোনয়নের বিষয়ে কাজ করছে পরিষদের কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূল দুটি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানা যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশ-ছাত্রলীগের কাছে অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে। এই বিবেচনায় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জোট না করার বিষয়ে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সবাই আমাদের ডেকেছে। আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, রাজনৈতিক দল চাইবে রাজনীতি হিসেবে একটা ফ্লেভার লাগানোর জন্য। আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি স্বতন্ত্রভাবে, কোনো রাজনীতির ব্যানারে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডাকসু নির্বাচন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে করব।’

আগামী ৩ মার্চ মনোনয়ন চূড়ান্তের শেষ তারিখ। শেষ পর্যন্ত জোট করার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘জোটের সম্ভাবনা যে নেই এটা আমরা পুরোপুরি বলছি না। ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি সাধারণ শিক্ষার্থীর অনুকূলে আনা। বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠন চাচ্ছে ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে হোক। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান তৈরি হোক। সেই প্রেক্ষাপটে জোটও হতে পারে।’