সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও, জৈনপুর, ভবনাথপুর রতনপুর ও ভাটিবন্দর গ্রামের লোকজন স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রোববার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের কাছে জাকিরের বিচার দাবি করে স্মারকলিপি প্রদান করে।

এ সময় বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ তার বিচার দাবি করে স্লোগান করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন, নুরুজ্জামান, কান্দারগাঁও গ্রামের বজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ, ভবনাথপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম, নাঈম, ফাতেমা, রোকসানা ও জাকির বাহিনীর হাতে নিহত যুবলীগ নেতা রিপনের মা রিনা বেগম প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন ও তার বাহিনী  দীর্ঘদিন ধরে ৫ গ্রামের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।

গত ২০ ফ্রেব্রুয়ারী পূর্বশত্রুতার জের ধরে কান্দারগাঁও গ্রামে প্রতিপক্ষের ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। পরদিন জৈনপুর গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী শুকুর আলীর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে জাকির ও তার বাহিনী পিটিয়ে আহত করে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে তাজুল ইসলাম ও রোকসানা বলেন, কান্দারগাঁও এলাকায় যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী জাকির হোসেন ও তার লোকজন আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জাকির ও তার বাহিনী যুবলীগ নেতা রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করে। একই গ্রামের তারেকের হাত কেটে নিয়েছে। এ ছাড়া তার দলের লোক সাধনকে গলা কেটে হত্যার পর নিরীহ লোকজনকে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর বিষয়টি উঠে আসে।   

নিহত যুবলীগ নেতা রিপনের মা রিনা বেগম বলেন, আমার ছেলের কি দোষ ছিল? জাকির বাহিনীর মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমার ছেলে রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করে জাকির ও তার লোকজন। আমি জাকিরের বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। সোনারগাঁ থানার ওসিকে নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।