পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ তলানিতে নেমে এসেছে। এর ফলে দিনের লেনদেনও কমে গেছে। ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এর সাবসিডিয়ারিগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কেনাবেচা কমে গেছে ১০ শতাংশের বেশি। ডিএসই সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ডিএসইর মোট লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। পরের বছর থেকে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণে এ বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা চলতি বছর ৪ শতাংশে নেমে আসে। ফলে বাজার হয়ে পড়েছে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী-নির্ভর।
বর্তমানে ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৯২ শতাংশ আসে সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক ৪ শতাংশ ও বিদেশিদের অংশগ্রহণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট লেনদেনের অবশিষ্ট অংশ আসে ব্রোকার ডিলার ও অন্যান্য সূত্র থেকে। ব্যাংক ও ব্যাকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বড় অঙ্কের লোকসানও লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মার্জিন ঋণে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের বিনিয়োগও আটকে গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে আমানতের সুদহার কম থাকায় ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বেড়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে উদ্বৃত্ত তারল্যের বেশির ভাগই সরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর।
২০১৭ সালে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এরপর থেকেই ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। এ সময়ে আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। তবে আমানতের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যাংক খাতে তারল্যের পরিমাণ কমেছে বলে জানা গেছে। এখন নতুন আমানতও কম আসছে বলে সূত্র জানায়। আর এ তারল্য সংকট মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও পড়ছে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ৮১৫ কোটি টাকা থেকে ৭২৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। গড় সপ্তাহে লেনদেন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ শেয়ারের দরও। তবে টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি খাতসহ কিছু বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় সূচকের তেমন পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি আগের সপ্তাহের তুলনায় মাত্র ৪ পয়েন্ট কমেছে। যেখানে আগের সপ্তাহে এ সূচকটি ৬১ পয়েন্ট কমেছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৪৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৪টির। বিপরীতে কমেছে ২২৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর। গত সপ্তাহে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স। এ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে ২৪ শতাংশ। দর বাড়ার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্্ল কোম্পানি, মুন্নু সিরামিক, রংপুর ফাউন্ড্রি, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এস আলম কোল্ড রোল স্টিল মিলস ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এদিকে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বিমা খাত। এ খাত থেকে মুনাফা তুলে নেওয়ায় দর হারানোর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকার সাতটিই ছিল এ খাতের। এ সময় এসব কোম্পানি ১০ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।