রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি জাগিয়ে তুলতে হবে। দল বা ব্যক্তি নির্ভরশীলতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র ও আদর্শিক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশে গড়ে উঠবে ত্যাগী, দক্ষ ও সুযোগ্য নেতৃত্ব। গতকাল রবিবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আর সমাবর্তন বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদক ও জঙ্গি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এজন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই শিক্ষা দেয় না। শিক্ষার্থীদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র ঘটায়। আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। আর ভৌগোলিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি এমন স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে ব্লু ইকোনমি, ডেল্টা ফরমেশন, ম্যানগ্রোভফরেস্ট, ইকো-ট্যুরিজমসহ নানা বিষয়ে মৌলিক গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত ৬৭৬ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৭৭ জনই নোয়াখালীর উল্লেখ করে তাদের স্মরণ করেন। পরে তিনি মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক ও ভাইস চ্যান্সেলর পদক তুলে দেন।