নগরকান্দায় নৌকার বাধা সংসদ উপনেতাপুত্র!

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের পাশে নেই দলের বেশিরভাগ নেতা। আর আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুলকে সঙ্গ দিচ্ছেন বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় নেতারা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবরও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ‘একঘরে’র মতো হয়ে আছেন নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার। আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে এই উপজেলায় ভোট।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও ছোট ছেলে শাহদাব আকবরের নির্দেশের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধ্য হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে। এ বিষয়ে শাহদাব তাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন তার প্রার্থী শাহ জামান। তাকে (প্রার্থী) জেতাতে হবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুল কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের এক দিন আগে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ জামান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুস সোবাহান মিয়া, সহসভাপতি কালাম কাজী, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান পথিক, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মিজানুর রহমানসহ উপজেলার প্রায় সব ক’টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

গত ২২ জানুয়ারি শাহ জামান বাবুল নগরকান্দার বিভিন্ন ইউনিয়নে গাড়িবহর নিয়ে নির্বাচনী শোভাযাত্রা করেন। ওই সময় তার পাশে ছিলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সহকারী একান্ত সচিব শফিউদ্দিন চৌধুরী।

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের না থাকার কারণ সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, ‘শুনেছি শাহদাব আকবর আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের ফোন করে বলেছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন আমার প্রার্থী শাহ জামান। আপনাদের তার পক্ষে কাজ করতে হবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহদাব আকবর চৌধুরী মোবাইল ফোনে বলেন, যেহেতু এই নির্বাচনে বিএনপি আসছে না তাই দলীয় সিদ্ধান্ত বিদ্রোহীদের বিষয়ে একটু শিথিল। এ জন্যই দলীয় কেউ দোয়া বা আশীর্বাদ নিতে এলে তাকে তো বঞ্চিত করা যায় না।