উপজেলা নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীতে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরকার বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জেলার যে আটটি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে তার পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ‘বিদ্রোহী’ নেতারা। এর ফলে নির্বাচনী প্রচার ঘিরে দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি বাড়ছে। এদিকে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা প্রচারে এগিয়ে থাকলেও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা খানিকটা ধীরে চলো নীতি নিয়েছেন। বেশিরভাগ উপজেলায় বর্তমান সংসদ সদস্যদের পছন্দের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
বাগমারায় উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে অনিল কুমার সরকার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এখানে স্বতন্ত্র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা বাবুল হোসেন। দুর্গাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তিনজন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। এই উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মজিদ ও আবদুল কাদের। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানকার আওয়ামী লীগের মধ্যে বর্তমানে যে রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি হয়েছে, ভোটের পরেও কর্মীসমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধ চলমান থাকতে পারে।
গোদাগাড়ীতে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বদিউজ্জামান। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে দুজনের সমর্থকদের মধ্যে খানিকটা উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। দল থেকে বদিউজ্জমানকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
চারঘাটে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সহসভাপতি টিপু সুলতান। তারা দুজনেই ভোটের মাঠে প্রচারে ব্যস্ত। তানোরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফর রশিদ হায়দার ময়না। নৌকা প্রতীক না পেয়ে দল ত্যাগ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হয়ে লড়ছেন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম।
রাজশাহীর উপজেলাগুলোতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা প্রার্থী রয়েছেন তাদেরও বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একই দলের কর্মী-সমর্থক হলেও তারা ভিন্ন ভিন্ন বলয়ে অবস্থান করছেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল দাবি করেন, ভোট শেষে আবারও সবাই এক কাতারে আসবেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের মাঠে শক্ত বিরোধী দল না থাকায় দলের নেতারাই পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ সাময়িক। ভোট শেষে সব ঠিক হয়ে যাবে।’