সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ৪৫ প্রাথমিক শিক্ষকের এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে গতকাল সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকদের জন্য দেওয়া রায় ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনকারীর আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন জানিয়েছেন।
এই আইনজীবী জানান, সারা দেশে প্রাথমিকে ৬৫ হাজার ৫৯ প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন এবং ওই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনও জারি করে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কৌশলে প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন) নির্ধারণ করে। অথচ নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পান।
মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকার সূত্রাপুরের গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রায় এলো।