কয়লাখনি মামলা ৬ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলবে বলেও আদেশ দিয়েছে আদালত।

আমিনুল হকের মামলা বাতিল প্রশ্নে দেওয়া রুল গতকাল সোমবার খারিজ করে এ রায় দেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী অনিক আর হক ও দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলছে। আজ মঙ্গলবার এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন প্রশ্নে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এ মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে ফৌজদারি বিবিধ আপিল করেন আমিনুল হক। শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রুল জারি করে তার মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। গতকাল হাইকোর্ট রুল খারিজ করেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আর কোনো বাধা নেই। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করে দুদক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। মামলার ১৬ আসামির মধ্যে ৬ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন।