মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সোমবার সকালে বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাত হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে উপকূলীয় বেশ কয়েক জেলায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও দুয়েক দিন বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
চট্টগ্রাম : কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া বয়ে গেছে চট্টগ্রামসহ আশপাশ এলাকায়। সেই সঙ্গে ছিল বজ্রসহ বৃষ্টি। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, চট্টগ্রামে সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে আগামী দুই-তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
জেলার সীতাকুণ্ডে বজ্রপাতে রতন জলদাস (৩২) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে আহত অন্য জেলে গফুর জলদাসকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় আনোয়ারায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাগরে মাছ ধরার বেশকিছু নৌকা ভেঙে গেছে।
ঝড়ো হাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেলে নৌবাহিনী সদস্যদের বহনকারী একটি স্পিডবোট উল্টে যায়। ভাসানচরে নির্মাণাধীন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে একটি ভাড়া করা স্পিডবোটে চট্টগ্রাম আসছিলেন নৌবাহিনীর সাত সদস্য। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে কুমিরা ঘাটে নিয়ে যায়।
বান্দরবান : নাইক্ষ্যংছড়ির দক্ষিণ বাইশারী গ্রামে বজ্রপাতে একই পরিবারের একজনের মৃত্যু ও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ঝড়ে বাঘমারা, রাজবিলা, রোয়াংছড়ি, লামাসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার : বজ্রপাতে মহেশখালীতে মোহাম্মদ রাজীব (১২) নামে এক স্কুলছাত্র মারা গেছে।
পটুয়াখালী : সোনারচর সংলগ্ন সাগরে চারটি মাছধরা ট্রলারডুবির সংবাদ পাওয়া গেছে। রাংগাবালীর চরমোন্তাজসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় তরমুজ নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কয়েকশ চাষি।
নোয়াখালী : হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে আকস্মিক ঝড়ে তিন শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও অন্তত ২০ হাজার মন শুঁটকি নষ্ট হয়ে গেছে। নদীতে মাছধরা অবস্থায় ২০ জেলেসহ পাঁচটি নৌকা নিখোঁজ হয়। জেলেরা তীর আসতে সক্ষম হলেও নৌকার সন্ধান মেলেনি।