নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্রাই ও গুমানী নদী সংস্কার ও খননের নামে নদী দুটি কেটে নালা তৈরি করা হচ্ছে। নদী খননের মাটি আবার নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এতে করে কাজের কাজ কিছু না হলেও খননের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে ঠিকই। অভিযোগ পেয়ে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস খননকাজ বন্ধ করে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আত্রাই ও গুমানী নদী সংস্কার ও খননকাজ শুরু করে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত নদীর মাঝখানে মাত্র ৩০ ফুট খনন করা হচ্ছে। নদীর মাটি আবারও নদীর ভেতরেই দুই ধারে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে দুপাশ সংকুচিত হয়ে নদীর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে। নদীর মাঝে কেবল নালা তৈরি করা হচ্ছে। জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ওই মাটি সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা হবে। তবে স্থানীয় লোকজন তার কথা বিশ্বাস করতে নারাজ। তারা জানায়, খননের ওই মাটি পরে আর সরানো না হলে তখন এর দায়ভার কে নেবে?
সাংসদ আবদুল কুদ্দুস খনন স্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত সোমবার খননকাজ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী দুটির মাঝ বরাবর খনন করলেও খননের মাটি ফেলছে নদীর ভেতরে। ফলে নদী দুটি সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্ষার সময় ওই মাটি পানির স্রোতে ভেসে আবারও নদী ভরাট হয়ে যাবে। তাই জনস্বার্থেই খননকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা নদীরক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি আতাহার হোসেন বলেন, নদীর মাটি আবারও নদীর ভেতরে ফেলার চেয়ে এ ধরনের নদী খনন না করাই ভালো।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার এরশাদনগর থেকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর রাবার ড্যাম পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আত্রাই ও গুমানী নদীর সংস্কারে খননকাজ বাস্তবায়ন করছে। এ কাজে ৪২ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম দাবি করেন, দরপত্রে ৮০ থেকে ৮২ ফুট প্রস্থে গভীরতা ১০ থেকে ১২ ফুট, খননের জায়গা থেকে ৩৮ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে মাটি ফেলার নির্দেশনা রয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ সম্পন্ন করছেন। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে খননকাজ আপাতত বন্ধ আছে।