লালমনিরহাটে অসময়ে ধরলা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। জেলার আদিতমারী ও সদর উপজেলার দুর্গাপুর ও মোগলহাট ইউনিয়নের চারটি গ্রামে ধরলার ভাঙনে ছয়টি সীমানা পিলারসহ কয়েক শ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আবাদি জমি, বাঁশঝাড়, গাছপালা হারিয়ে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ। বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্ত এলাকার মানুষ। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গত সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের চওরাটারীতে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি নদীপাড়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষকে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধরলার এপারে লালমনিরহাটের দুর্গাপুর ও মোগলহাট ইউনিয়নের চওরাটারী, দিঘলটারী, কর্ণপুর ও কুড়ল গ্রাম। ওপারে ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিতালদহ অঞ্চলের ঝারিধল্লা, ঘোষপাড়া ও দরিবস গ্রাম। এলাকাবাসী জানায়, ভারতের ওই সব গ্রামে ধরলার ভাঙন ঠেকাতে বছর পাঁচেক আগে ঘোষপাড়া থেকে মরাকুটি পশ্চিমটারী পর্যন্ত তীর ঘেঁষে পাথরের বাঁধ দেয় ভারত সরকার। ফলে ধরলার গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ অংশে ভাঙন তীব্র হয়।
ধরলার অব্যাহত ভাঙনে দুর্গাপুর ও মোগলহাট সীমান্তের মেইন পিলার ৯২৭-এর সাব-পিলার ৪ এস থেকে ৮ এস এবং মেইন পিলার ৯২৮, এর সাব-পিলার আইএসসহ ছয়টি পিলার ও প্রায় ৪০০ একর আবাদি জমি এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবশেষ মাসখানেক আগে একটি সাব-পিলার ভাঙনে বিলীন হয়।