২০১৮ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের অনুপাত দুই শতাংশের অধীন রাখতে হয়, যা বাংলাদেশ কখনোই অর্জন করতে পারেনি। ২০১৮ সাল শেষে দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেশি। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপির পরিমাণ বাড়লেও তিন মাসের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। হিসাব বছরের শেষ প্রান্তিকে কিছু ঋণ নিয়মিত হওয়ায় তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকায়।

২০১৭ সাল শেষে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ছিল ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। পরবর্তী নয় মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়, যা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সাল শেষে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশে। অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর অবলোপন করা ঋণ যোগ করলে প্রকৃত খেলাপির পরিমাণ আরও বাড়বে।

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী খেলাপি ঋণের অনুপাত ২ শতাংশের অধীনে রাখতে হয়। বিশ^ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে বিশে^র গড় খেলাপি ঋণ ছিল ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখেছে একমাত্র নেপাল। দেশটির খেলাপি ঋণ মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। উন্নত শাসন, আইনি কর্মকা- ও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত খেলাপি ঋণ কমিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে বাংলাদেশে এর পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আগ্রাসী ঋণ বিতরণ। অত্যধিক প্রতিযোগিতার কারণে ব্যাংকগুলো তাদের পোর্টফোলিও বাড়াতে আগ্রাসী ঋণ বিতরণে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অধিকাংশ গ্রাহককে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থায়ন করা হয়। ফলস্বরূপ এসব গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ঋণে প্রয়োজনীয় দলিলাদির অপর্যাপ্ততায়ও খেলাপি বাড়ে। ইচ্ছাকৃত খেলাপির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণেও খেলাপি বাড়ে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সাল শেষে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা, যার প্রায় ৩০ শতাংশই খেলাপি। একই সময়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে, যার মধ্যে ৩৮ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা খেলাপি। বিদেশি ব্যাংকগুলো ৩৫ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে, যার ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ২৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণের চার হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সবারই কমেছে।