২০১০ সালের জুনে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহতের পর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত পাঁচটি রিটের ওপর শুনানি নিয়ে রুল জারি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ।শুনানিকালে আদালত বলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করছেন। অথচ আমলারা দীর্ঘ সময়েও এই ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেননি। আদালত আরও বলে, যদি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে ১০০ কমিটি করেও কোনো কাজে আসবেনা। সম্প্রতি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনে পুড়ে ৬৭ জন নিহতের ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ, পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গোডাউন সরানো এবং ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক ছয়টি রিট আবেদন করে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি।আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ইউনুছ আলী আকন্দ, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মো. রিয়াজ উদ্দিন ও অমিত দাসগুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
রিটকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, দুই আইনজীবীর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুধু নিমতলীর ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটির ১৭ দফা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। অন্য তিনটি রিট আবেদন চার সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ড ওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছে।
নিমতলীর ওই ঘটনার পর ২০১১ সালে তদন্ত কমিটির ১৭টি সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- জরুরি ভিত্তিতে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা অপসারণ, আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ মজুদ এবং বিপণন কঠোরভাবে নিষিদ্ধকরণ, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিতকরণ, দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য স্থানীয়ভাবে পৃথক পানির লাইনসহ হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপন, অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন ইত্যাদি।