মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ইতিহাসের অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। তার জন্ম ঢাকায়। মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে শিক্ষা শেষে ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার পাশাপাশি জাদুঘর ও আর্কাইভস বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তার রচিত ও সম্পাদিত ত্রিশটি গ্রন্থের মধ্যে আটাশটিই মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস (তিন খণ্ড), মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপঞ্জি, ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস (প্রথম খণ্ড), বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বীরাঙ্গনা বীরমাতার জবানিতে একাত্তরের ভয়াল স্মৃতি। ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র’র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশে এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা এবং মুক্তিযুদ্ধ চর্চা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হন ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ মুনীরুদ্দিন। 

দেশ রূপান্তর : আপনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করছেন। মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস রচনা করেছেন, বীরাঙ্গনাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা এখন কী পর্যায়ে আছে বলে আপনি মনে করেন?

দেলোয়ার হোসেন : স্বাধীনতার পর পঁচাত্তর পর্যন্ত সময়কালকে মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণার সূচনা পর্ব বলা যেতে পারে। এরপর লম্বা একটা সময় বিরতি। দেশের শাসন ক্ষমতায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি থাকায়, জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনে মুক্তিযুদ্ধ চর্চায় তেমন কোনো কাজ হয়নি। বলা যেতে পারে স্বাধীনতার পর তৃতীয় দশকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধ চর্চার বিষয়টা ভালোভাবে শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে আমি প্রথম ‘মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপঞ্জি’ প্রকাশ করি। সে সময় এতে ৮৫০টি বই তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে বইটির নতুন সংস্করণে ৪ হাজার ৬৬০টি বই তালিকাভুক্ত হয়। অর্থাৎ বিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে।

আমরা যদি মূল্যায়ন করি, তাহলে বলতে হবে, আগ্রহের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ একটা বড় জায়গায় রয়েছে, এটা ভালো দিক। কিন্তু ইদানীং একটা সমস্যা চলছে, যেটাকে খুব নিন্দনীয়ও বলা যায়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় দেখা যাচ্ছে অনেক বইপত্রই শুধু কাট-কপি-পেস্ট করে প্রকাশিত হচ্ছে। মৌলিক গবেষণা কিংবা মাঠপর্যায়ের কাজ, সেকেন্ডারি সোর্সের বদলে সরাসরি প্রাইমারি সোর্স বা অরিজিনাল ডকুমেন্ট নিয়ে করা কাজের সংখ্যা কম। আমার নিজের অনেক বইয়ের পাতার পর পাতা অন্য অনেকে এমনকি জাতীয় পত্র-পত্রিকাতেও কোনো সূত্র উল্লেখ না করেই হুবহু ছেপে দিতেও দেখেছি আমি।  আরেকটা সমস্যা হচ্ছে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের বই সরকার এবং নানা সংস্থা কেনে তাই অনেকেই নানারকম নতুন নাম দিয়ে ভেতরে কাট-কপি-পেস্ট কনটেন্ট দিয়ে বই বের করছে। এমনও দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের একটা প্রবন্ধ দিয়ে বইয়ের শিরোনাম হচ্ছে বাকি লেখাগুলো একটাও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে না! এটা খুবই নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।

দেশ রূপান্তর : মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস রচনা এবং গবেষণায় সহায়তার জন্য মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপঞ্জি প্রকাশ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণায় আপনার নিজের আগ্রহটা কীভাবে শুরু হলো?

দেলোয়ার হোসেন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। আমরা মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় দেখেছি।  আমাদের প্রজন্মটা পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের পটপরিবর্তনটা দেখেছি। চোখের সামনে দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে এবং দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ উল্টোদিকে নিয়ে যেতে দেখেছি। তো আমরা প্রাইমারি স্কুলে যা পড়লাম, হাইস্কুলে উঠে দেখলাম ইতিহাস বদলে দেওয়া হয়েছে। এভাবে আমাদের প্রজন্মটা কিন্তু বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে।

আমি নিজে ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে কিছুটা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক পরীক্ষার পর হাতে অনেক সময় ছিল। তখন হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ প্রকল্পটি চলছিল, অধ্যাপক কে এম মহসিন ছিলেন এই প্রকল্পের পরিচালক। স্যার আমাকে বললেন, এখানে আসো বইপত্রগুলো পড়ো, কাজ করো, অনেক কিছু জানতে পারবে। আমি বই পড়তাম, সেগুলো গুছিয়ে রাখতাম আর একইসঙ্গে যা কিছু পড়ছি সেগুলোর তালিকাও করতাম। এভাবে ১৯৮৪ সালে আমার মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার হাতেখড়ি হয়।

দেশ রূপান্তর : আমরা জানি বাংলাদেশের জাতি গঠনে, মুক্তিযুদ্ধে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ চর্চার ক্ষেত্রটা কতটা প্রসারিত হয়েছে?

দেলোয়ার হোসেন : আপনি সুন্দরভাবে বলেছেন, একটা জাতি গঠনে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কেন্দ্রীয় ও আত্মত্যাগী ভূমিকা আছে। ২ মার্চ আমরা পতাকা দিবস পালন করব।  স্বাধীন বাংলাদেশের এই পতাকাটাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিয়েছিল, এই কলাভবনেই প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলেও এটা ঠিক যে, আমরা এখনো অনেক কিছুই করতে পারিনি। এই কলাভবনের সামনের চত্বরের ম্যুরালে ২০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী এবং তাদের পোষ্যদের নাম লেখা আছে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনের স্থাপনাতেও তা আছে। কিন্তু এটা কিন্তু পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। আসলে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা এখানে বা ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, এটা শুধু তাদের তালিকা। এখানকার সাবেক ছাত্রছাত্রী-কর্মচারী যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করলে কিন্তু এই তালিকাটা আরও কয়েকগুণ বড় হতো।

সেক্ষেত্রে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ও সংগ্রহশালা আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তাহলে আমরা আরও অনেক স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারতাম।  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পরপরই ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা’ হয়েছে, সেই সুবাদে তারা অনেক তথ্য-উপাত্তসহ অনেক কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছে। আমাদের এখানে পাঁচ-ছয় বছর আগে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, আমি এর দ্বিতীয় পরিচালক। কিন্তু আমাদের আলাদা জায়গাও নেই, কলা অনুষদের ডিন হিসেবে আমার যে দপ্তর সেখানেই এর কাজকর্ম করি আমি। এছাড়া এখানে ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ’ নামেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি কেন্দ্র আছে। তবে এগুলো এখনো একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় আছে। তবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একটা কর্নারে আমরা ‘মুক্তিযুদ্ধ সেল’ করতে পেরেছি, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় সাড়ে তিন হাজার বইপত্র একত্রে পাবেন, এটা এ বিষয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন আবুল বরকত। তার নামে ‘ভাষা শহীদ আবুল বরকত জাদুঘর ও সংগ্রহশালা’ আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমি এরও পরিচালক। সেখানে ভাষা আন্দোলন বিষয়ক পাঁচশ বইয়ের মধ্যে সাড়ে চারশই আমরা সংগ্রহে রাখতে পেরেছি।

দেশ রূপান্তর : উচ্চশিক্ষায় বা অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কী পর্যায়ে আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে কীরকম গবেষণা হচ্ছে? মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাই বা কীরকম?

দেলোয়ার হোসেন : এটা দুঃখজনক যে, উচ্চশিক্ষায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় আমরা এখনো দুর্বল। আমার জানামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সব মিলিয়ে ২৫-২৬টি। ভাষা আন্দোলনের প্রায় সত্তর এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পঞ্চাশ বছর হতে চলল, সে হিসাব করলে বছরে একটি গবেষণাও এখানে হয়নি।  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় জায়গা যেখানে এমন গবেষণা হয়েছে, কিন্তু সেখানেও সংখ্যাটা এরচেয়ে কম বা এরকমই। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে ১০০টিও এমফিল-পিএইচডি হয়নি ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।  তবে আজকাল অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং আমি মনে করি আগামীতে এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকবে।

দেশ রূপান্তর : মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগের প্রশ্নে মাঝে মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার ‘জাল সনদ’-এর প্রসঙ্গ আসে। একইসঙ্গে সম্প্রতি আলোচিত হয়েছে চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা’ প্রসঙ্গ। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বিষয়গুলোকে আপনি কীভাবে দেখেন?  

দেলোয়ার হোসেন : প্রথমত, এটা খুবই লজ্জার যে আমাদের এমন চেতনা ও আবেগের জায়গাকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে মুক্তিযোদ্ধার সনদও জাল হয়েছে। এর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। খোদ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের একজন সচিব নিজেই এতে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সচিবের বিরুদ্ধে তো ক্রিমিনাল অফেন্সের মামলা হওয়া উচিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আর আমার কাছে মনে হয়, এ বিষয়গুলো যতটা সতর্কতা নিয়ে যাচাই-বাছাই হওয়া উচিত তা হচ্ছে না।   

দ্বিতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের কোটা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কেননা, এই কোটা সংস্কার নিয়ে যেমন আন্দোলন হয়েছে তেমনি কোটা বহাল রাখার পক্ষেও আন্দোলন চলছে। এ তো গেল চাকরির বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কিন্তু আমরা এখন তেমনভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পাচ্ছি না, নাতি-পুতিদের পাচ্ছি। তবে, এগুলো সাময়িক ব্যাপার। এখনকার তরুণরা যখন বেড়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করবে তখন এইসব বিতর্কের বিষয়গুলো হয়তো থাকবে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তেমন একটা বাংলাদেশই গড়তে চাই।